পর্তুগালের কাস্তেলো ব্রাঙ্কো পৌরসভায় ডেঙ্গু ও জিকা ভাইরাসবাহী ‘টাইগার মশা’ শনাক্ত হওয়ার পর সতর্কতা জারি করেছে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। ডেঙ্গু, জিকা এবং চিকুনগুনিয়ার মতো রোগ ছড়াতে সক্ষম ‘এডিস অ্যালবোপিকটাস’ প্রজাতির এই মশা পাওয়া যাওয়ার কথা জানিয়েছে কাস্তেলো ব্রাঙ্কোর স্থানীয় স্বাস্থ্য ইউনিট।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইউএলএস জানায়, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ ড. রিকার্ডো হোর্হে এবং ডিরেক্টরেট-জেনারেল অব হেলথ-এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ভেক্টর সার্ভিলেন্স নেটওয়ার্ক-এর মাধ্যমে পৌরসভাটিতে এই মশার উপস্থিতি ধরা পড়ে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘টাইগার মশা হিসেবে পরিচিত এই প্রজাতির মশা মানুষের মধ্যে রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাস বহন করতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত জাতীয় ভূখণ্ডে এই মশার দেহে কোনো ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।’
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় দায়িত্বরত বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে এবং এই মশার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে রেসপন্স প্ল্যান বা জরুরি পরিকল্পনা জোরদার করেছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই মশার উপস্থিতি আগে থেকেই চিহ্নিত হওয়ায় কাস্তেলো ব্রাঙ্কোতে এর উপস্থিতি একপ্রকার অনুমিতই ছিল।
স্থির পানিতে ডিম পাড়া এই মশার বংশবৃদ্ধি রোধে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়েছে কাস্তেলো ব্রাঙ্কো স্থানীয় স্বাস্থ্য ইউনিট। এই উদ্দেশ্যে ফুলদানি, বালতি, বয়াম, টায়ার, ক্যান এবং পানি জমতে পারে এমন অন্যান্য পরিত্যক্ত পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার করা, খালি করা বা ফেলে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জমে থাকা পানির পাত্র ঢেকে রাখা, সুইমিং পুলের পানি পরিষ্কার ও নিয়মিত পরিচর্যা করা এবং ব্যবহারের বাইরে সেগুলোর ওপর ঢাকনা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বাড়ির ড্রেন পরিষ্কার রাখা এবং ময়লার ঝুড়ি বা ডাস্টবিন ভালোভাবে ঢেকে রাখার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
এডিস অ্যালবোপিকটাস মশাটি এর গাঢ় রঙের জন্য সহজেই শনাক্তযোগ্য, যার মাথা ও থোরাক্সের ওপরের অংশে একটি সাদা ডোরা এবং শরীর ও পায়ে সাদা-কালো ডোরাকাটা প্যাটার্ন থাকে। পর্তুগালে ২০০৫ সালে প্রথম মাদেইরায় আক্রমণাত্মক এডিস মশা শনাক্ত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে উত্তরাঞ্চলের পেনাফিলে, ২০১৮ সালে আলগারভের লুলে এবং ২০২২ সালে আলেন্তেসোর মের্তোলায় মূল ভূখণ্ডে এই মশার বিস্তার ঘটে। এছাড়া গত বছরের (২০২৫) সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে কাস্তেলো ব্রাঙ্কো জেলার কোভিলা অঞ্চলেও এই টাইগার মশার উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছিল।
