ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে মানবিকতা প্রদর্শন এখন আইনি ঝুঁকির মুখে। বেসরকারি সংস্থা ‘পিকাম’ প্রকাশিত এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে জানা গেছে, ২০২৫ সালে ইইউ জুড়ে কমপক্ষে ১১০ জন ব্যক্তি শুধুমাত্র ‘অভিবাসীদের সাহায্য করার’ অভিযোগে বিচারিক হয়রানির শিকার হয়েছেন। সংস্থাটির মতে, প্রকৃত সংখ্যাটি এর চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে। এই ঘটনাকে ‘সংহতির অপরাধীকরণ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ইউরোপ তার মৌলিক মূল্যবোধ থেকে বিচ্যুত হচ্ছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গ্রিস, পোল্যান্ড, ইতালি এবং ফ্রান্সে এই মামলার হার সবচেয়ে বেশি। অভিযুক্তদের মধ্যে ৪১ জনের বিরুদ্ধে সমুদ্রে বিপদগ্রস্ত মানুষকে উদ্ধার করার, ৮ জনের বিরুদ্ধে খাবার ও পানি দেওয়ার এবং এমনকি একজনের বিরুদ্ধে অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। স্পেনের দুই ট্যাক্সি চালকের বিরুদ্ধে নথিপত্রহীন যাত্রী পরিবহনের দায়ে মামলা করার মতো অদ্ভুত ঘটনাও ঘটেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ অভিযোগ করেছে যে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন অভিবাসীদের ক্ষতি করার লক্ষ্যে আইনের শাসনের এই অবক্ষয়কে পরোক্ষভাবে প্রশ্রয় দিচ্ছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, বিচারের মুখোমুখি হওয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশই শেষ পর্যন্ত খালাস পেলেও দীর্ঘ ৩ থেকে ৪ বছরের বিচারিক প্রক্রিয়া তাদের আর্থিক ও মানসিক অবস্থার ওপর চরম আঘাত হানছে। ২০২৫ সালে বিচার শেষ হওয়া ৪১ জনের মধ্যে ৩৮ জনই নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন, যা প্রমাণ করে যে মামলাগুলোর উদ্দেশ্য ছিল মূলত ভয় দেখানো। পিকাম হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, অভিবাসী পাচার সংক্রান্ত নতুন ইইউ আইন সংশোধিত হলে মানবিক সহায়তাকে ‘অপরাধ’ হিসেবে গণ্য করার পথ আরও প্রশস্ত হতে পারে, যা ইউরোপের মানবাধিকার রক্ষায় এক বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে।
