শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬   |   ৮ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০২৬ সালের গ্রীষ্মে ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ তাপপ্রবাহে ৫০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নতুন এক গবেষণা অনুযায়ী, তাপজনিত মৃত্যুর হিসাবে ইউরোপের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী গ্রীষ্ম হতে পারে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, এসব মৃত্যুর মধ্যে ৩২ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর জন্য সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করা হচ্ছে। জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট দূষণ বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়িয়ে তাপপ্রবাহকে আরও তীব্র করে তুলছে।

গবেষণার ফলাফল নেচার হেলথ সাময়িকীতে প্রকাশিত দুটি গবেষণাপত্রে তুলে ধরা হয়েছে। গবেষণার অন্যতম লেখক ও লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের চরম আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক গবেষক ক্লেয়ার বার্নস বলেন, ইউরোপের বড় একটি অংশে ২০২৬ সালের গ্রীষ্ম তাপজনিত মৃত্যুর হিসাবে রেকর্ডে সবচেয়ে ভয়াবহ হয়ে থাকতে পারে।

জাতিসংঘের বার্ষিক জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিতে আন্তর্জাতিক নেতাদের তুরস্কে সমবেত হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে এই মৃত্যুর হিসাব সামনে এসেছে। এর কয়েক দিন আগে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়, প্রাক্‌-শিল্প যুগের তুলনায় বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখার লক্ষ্য অর্জনের সুযোগ কার্যত শেষ হয়ে গেছে।

বার্নস বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব ঠেকানোর ক্ষেত্রে বিশ্ব অনেক পিছিয়ে রয়েছে। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এবং দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো না গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।

ইউরোপ বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশ। চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলোর মধ্যে তাপপ্রবাহই সবচেয়ে প্রাণঘাতী। চলতি বছরের মে মাসের শেষ দিক থেকে আগস্টের শেষ পর্যন্ত নজিরবিহীন উচ্চ তাপমাত্রায় পুড়েছে মহাদেশটি।

গবেষণায় বলা হয়েছে, পশ্চিম ইউরোপে এ বছর রেকর্ডে সবচেয়ে উষ্ণ গ্রীষ্ম দেখা গেছে। এ সময় তাপমাত্রা ১৯৯১ থেকে ২০২০ সালের গড়ের তুলনায় প্রায় ২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৫.২ ডিগ্রি ফারেনহাইট) বেশি ছিল। তবে কিছু দেশে নির্দিষ্ট দিনে তাপমাত্রার পার্থক্য স্বাভাবিকের তুলনায় ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি ছিল।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version