গলাকাটা অভিবাসন ফি কমানো এবং বিদেশে চাকরির নামে চটকদার ভুয়া বিজ্ঞাপন দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক চক্র ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। প্রতারণা ও অনিয়মে জড়িতদের বিষয়ে ডিবি ও ডিজিএফআই নজর রাখছে জানিয়ে তিনি বলেন, অসাধু চক্র ভালো না হলে রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ‘ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড প্রটেকশন (ওইপি)’ প্ল্যাটফর্মের কমপ্লেইন্ট ম্যানেজমেন্ট মডিউল উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো নিয়ে সিন্ডিকেটের একচেটিয়া ব্যবসা চলছে। পাশাপাশি সিঙ্গাপুরে কর্মী পাঠাতে ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা নেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এগুলো সিন্ডিকেটের কাজ, যারা গরিব মানুষের রক্ত চুষে শত কোটি টাকার মালিক হচ্ছে। দেশে প্রায় তিন হাজার রিক্রুটিং এজেন্সি থাকলেও সবার প্রয়োজন আছে কি না, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন তাঁর কাছে ৪০ থেকে ৫০টি প্রতারণার অভিযোগ আসে। সম্প্রতি সার্বিয়া পাঠানোর নামে জনপ্রতি ৬-৭ লাখ টাকা এবং ইউরোপের কথা বলে ১০-১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা পুলিশ তদন্ত করছে। বিএমইটির ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ভুয়া বিজ্ঞাপনদাতা ও প্রতারকদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। এছাড়া প্রবাসীদের ঋণ দেওয়ার নামে ব্যাংকিং অনিয়ম ও ঘুষ দাবি সহ্য করা হবে না বলে জানান তিনি।
এদিকে, আজ ৩০ জুলাই পালিত বিশ্ব মানব পাচারবিরোধী দিবসে অভিবাসন খাতের এক ভয়াবহ তথ্য সামনে এসেছে। জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনএইচসিআর ও ফ্রন্টেক্স-এর তথ্য অনুযায়ী, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে ইতালি ও গ্রিসে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশিরা শীর্ষে রয়েছেন। ২০২৫ সালে ২০ হাজারেরও বেশি এবং ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই আট হাজারের বেশি বাংলাদেশি সমুদ্রপথে ইউরোপে প্রবেশ করেছেন। লিবিয়ার ক্যাম্পে জিম্মি করে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ইউরোপে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পাচারের ধরণ বদলেছে। কম্বোডিয়ায় কল সেন্টারে চাকরির নামে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ‘অনলাইন স্ক্যামিং’ বা প্রতারণামূলক কাজে বাধ্য করা হচ্ছে। সম্প্রতি সেখান থেকে ৫৮৩ জন কর্মী ফিরে এসেছেন। অন্যদিকে, রাশিয়ায় ভালো কাজের লোভ দেখিয়ে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, পাচার বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ইতোমধ্যে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর অনিয়মে যুক্ত ৪৯টি এবং রাশিয়ায় ৩টি এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।
তবে অভিবাসন বিশ্লেষকদের মতে, মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের মামলাগুলোর ৯৪ থেকে ৯৫ শতাংশ আসামিই ছাড়া পেয়ে যান। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, হাজার হাজার মামলা ঝুলে থাকায় এবং পাচারকারীরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না পাওয়ায় এ ধরনের অপরাধ থামানো যাচ্ছে না।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো, চ্যানেল আই
