ইউরোপে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সৃষ্ট তীব্র তাপপ্রবাহ এবং হাড়কাঁপানো শীতে প্রতি বছর যে বিপুল সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়, তার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে অর্থনৈতিক বৈষম্যকে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, কেবল অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্যের কারণে প্রতি বছর ইউরোপে ১ লক্ষ ৯ হাজার ৮৬৬ জন মানুষ অতিরিক্ত মারা যাচ্ছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, যদি ইউরোপের দেশগুলো তাদের অভ্যন্তরীণ বৈষম্য কমিয়ে স্লোভেনিয়ার পর্যায়ে আনতে পারতো, তবে তাপমাত্রা জনিত এই মৃত্যুর হার অন্তত ৩০ শতাংশ বা প্রায় ১ লক্ষ ১০ হাজার জীবন বাঁচানো সম্ভব হতো।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, যারা দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করেন এবং শীতকালে ঘর গরম রাখার সামর্থ্য নেই, তারাই মূলত এই বৈষম্যের শিকার হয়ে অকালে প্রাণ হারাচ্ছেন। গবেষকরা জানিয়েছেন, ধনী অঞ্চলগুলোতে উন্নত স্বাস্থ্যসেবার কারণে শীতজনিত মৃত্যু কম হলেও ‘আর্বান হিট আইল্যান্ড’ প্রভাবের কারণে তাপপ্রবাহের সময় সেখানে মৃত্যুর হার অনেক বেশি। বড় শহরগুলোতে দালানকোঠা ও পিচঢালা রাস্তার আধিক্যের ফলে তাপমাত্রা গ্রামাঞ্চলের চেয়ে অনেক বেশি থাকে, যা ধনীদেরও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলছে।
বিশেষজ্ঞরা ২০২৬ সালের গ্রীষ্ম নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কারণ, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসটি বিশ্বব্যাপী রেকর্ডকৃত তৃতীয় উষ্ণতম মাস হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে এবং স্পেনে এটি ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে উত্তপ্ত এপ্রিল। এর সাথে যুক্ত হওয়া শক্তিশালী ‘এল নিনো’ প্রভাবের ফলে চলতি বছরের গ্রীষ্ম ইউরোপের জন্য অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও প্রাণঘাতী হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বার্সেলোনা ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল হেলথের প্রধান গবেষক ব্লাঙ্কা পানিয়েলো-কাস্তিলো মনে করেন, নীতিনির্ধারকরা যদি অর্থনৈতিক সাম্যের ওপর গুরুত্ব দেন, তবে তারা একই সাথে দারিদ্র্য বিমোচন এবং জলবায়ু জনিত মৃত্যু রোধ দুটি লক্ষ্যই অর্জন করতে পারবেন।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
