শনিবার, ৯ই মে, ২০২৬   |   ২৬শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের সরকারি স্টুডেন্ট লোন বা শিক্ষা ঋণ পাওয়ার সুবিধা পুরোপুরি বন্ধ করার জোরালো দাবি তুলেছে ব্রিটিশ রাজনৈতিক দল ‘রিফর্ম ইউকে’ । দলটির দাবি, বর্তমান লোন ব্যবস্থার ব্যাপক অপব্যবহার হচ্ছে এবং প্রতি বছর বিলিয়ন বিলিয়ন পাউন্ডের অপচয় ঘটছে। রিফর্ম ইউকে-এর শিক্ষা বিষয়ক মুখপাত্র সুয়েলা ব্র্যাভারম্যানের মতে, অনেক ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মানসম্মত শিক্ষার পরিবর্তে ‘অভিবাসন’ বিক্রি করছে, যা করদাতাদের অর্থের পরিকল্পিত অপব্যবহার।

সম্প্রতি প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে বিদেশি নাগরিকরা ৪ বিলিয়ন পাউন্ডেরও বেশি স্টুডেন্ট লোন গ্রহণ করেছেন, যা ২০২১-২২ সালের তুলনায় প্রায় ১ বিলিয়ন পাউন্ড বেশি। ব্র্যাভারম্যানের প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমানে যারা ‘সেটলড স্ট্যাটাস’ বা নির্দিষ্ট সময় বসবাসের ভিত্তিতে লোন পান, তাদের এই সুযোগ বাতিল করা উচিত। তিনি অভিযোগ করেন যে, অনেক শিক্ষার্থী কেবল রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা পাওয়ার জন্য কোর্সে ভর্তি হন কিন্তু নিয়মিত ক্লাসে অংশ নেন না। বর্তমান ক্ষমতাসীন লেবার পার্টিও এই জালিয়াতি রুখতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আভাস দিয়েছে।

উচ্চশিক্ষা খাতের তথ্য বলছে, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে যুক্তরাজ্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা গত বছরের তুলনায় ১ শতাংশ এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে প্রায় ৬ শতাংশ কমেছে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষা ঋণ বন্ধের এই প্রস্তাবটি কার্যকর হলে দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারগুলোর সন্তানদের উচ্চশিক্ষার ওপর বড় ধরনের আর্থিক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, এটি বর্তমানে একটি রাজনৈতিক দলের প্রস্তাব মাত্র; তাই এখনই সাধারণ শিক্ষার্থীদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

তথ্যসূত্র: ভিএন এক্সপ্রেস 

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version