আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাস ও তেলের অস্থিতিশীল মূল্যের মাঝেও নবায়নযোগ্য জ্বালানির কল্যাণে বড় ধরনের স্বস্তিতে রয়েছে ইউরোপের দেশগুলো। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে উইন্ড এবং সোলার শক্তির ব্যাপক প্রসারের ফলে ইউরোপের দেশগুলোতে বিদ্যুতের পাইকারি দাম গড়ে প্রায় ২৫ শতাংশ কমেছে। ‘পজিটিভ মানি’ নামক একটি সংস্থার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, ইউরোপের ১৯টি দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের ফলে বিদ্যুতের দাম গড়ে ২৪.২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
সোলারপাওয়ার ইউরোপ’-এর তথ্যমতে, গত ১ মার্চ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিদিন গড়ে ১১ কোটি ইউরো সাশ্রয় করছে যার মোট পরিমাণ ইতোমধ্যে ৩৭০ কোটি ইউরো ছাড়িয়েছে। যদি গ্যাসের দাম এভাবে চড়া থাকে তবে ২০২৬ সাল নাগাদ এই সাশ্রয়ের পরিমাণ ৬,৭৫০ কোটি ইউরোতে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
দেশভিত্তিক সাফল্যের ক্ষেত্রে স্পেন এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। ২০১৯ সাল থেকে দেশটি তাদের উইন্ড ও সোলার সক্ষমতা দ্বিগুণ করে গ্রিডে প্রায় ৪০ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ করেছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার প্রভাবে গ্যাসের দাম প্রায় ৫৫ শতাংশ বাড়লেও স্পেনের অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ বাজারে তার কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে নতুন রেকর্ড গড়েছে। গত ২৫ মার্চ ব্রিটিশ উইন্ড এনার্জি থেকে প্রায় ২৩,৮৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে যা দেশটির ২ কোটি ৩০ লক্ষ পরিবারের চাহিদা মেটাতে সক্ষম। ন্যাশনাল এনার্জি সিস্টেম অপারেটরের তথ্য অনুযায়ী ওই সময়ে ব্রিটেনের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের ৬০ শতাংশই আসছিল বাতাস থেকে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে স্থায়ী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ সংরক্ষণের জন্য ব্যাটারি প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। বর্তমানে ইউরোপের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় অর্ধেকই আসছে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে। গবেষকদের মতে, যেসব দেশে সক্ষমতা এখনও কম সেখানে দ্রুত সোলার ও উইন্ড পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপন করার পাশাপাশি সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য বজায় রাখতে পরিবর্তনশীল শুল্ক বা ভ্যারিয়েবল ট্যারিফ চালু করা জরুরি। জীবাশ্ম জ্বালানির দামের ক্রমাগত ওঠানামা ইউরোপের অর্থনীতিকে যে ঝুঁকির মুখে ফেলছে তা থেকে বাঁচতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিই এখন একমাত্র দীর্ঘমেয়াদী সমাধান হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
