আবাসন ব্যয় কমানো, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণের দাবিতে গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে বিক্ষোভ করেছেন হাজারো শিক্ষার্থী ও শিক্ষক। বুধবারের এ বিক্ষোভ থেসালোনিকি ও পাতরাসসহ দেশটির বিভিন্ন শহরেও ছড়িয়ে পড়ে।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের চাপে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জীবন কঠিন হয়ে উঠলেও সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে না। এ সময় তাঁদের হাতে থাকা ব্যানারে লেখা ছিল, ‘গ্রিস থেকে ফ্রান্স—শিক্ষায় অর্থ দাও’ এবং ‘পড়াশোনা করব, নাকি বেঁচে থাকব?’
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির উচ্চমূল্য ও আবাসনসংকটের প্রতিবাদে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে গ্রিসেও এ আন্দোলন হলো।
আবাসন ভর্তুকি বাড়ানোর দাবি শিক্ষার্থীদের
এথেন্সের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ২০ বছর বয়সী প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী পানাইওতিস মোশোনাস বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আর্থিক সংকট মোকাবিলায় সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের মাসিক ১২০ ইউরো আবাসন ভাতা দেওয়া হয়। কিন্তু এই অর্থ দিয়ে বাড়িভাড়ার অর্ধেকও মেটানো যায় না। তাছাড়া, প্রতি মাসে ভাড়া পরিশোধের সময় সহায়তা না দিয়ে বছর শেষে ভাতা দেওয়া হয়।
আবাসন ব্যয়ের পাশাপাশি স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারি বরাদ্দ বাড়ানোর দাবিও জানান বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের অভিযোগ, বাড়তি ব্যয় ও প্রতিষ্ঠানের ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়নি।
বিক্ষোভের সঙ্গে শিক্ষকদের ধর্মঘটও পালিত হয়। তবে ধর্মঘটের মধ্যেও কিছু স্কুল খোলা ছিল।
শিক্ষক ইয়ানিস রোমপাস বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে গিয়ে শিক্ষা খাতের কর্মীদের পরিবারগুলো চাপে রয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি স্কুলগুলোর পরিবেশও বছরের পর বছর খারাপ হচ্ছে।
বিক্ষোভ ঘিরে সতর্ক অবস্থানে পুলিশ
বুধবার এথেন্সের কেন্দ্রীয় এলাকায় বিক্ষোভ চলাকালে নিরাপত্তা জোরদার করে পুলিশ। বিক্ষোভস্থলের দিকে যাওয়া ব্যক্তিদের তল্লাশি এবং তাঁদের ব্যাগ পরীক্ষা করেন কর্মকর্তারা।
বিক্ষোভের পথে থাকা কয়েকটি দোকান ও ক্যাফেও সম্ভাব্য ভাঙচুরের আশঙ্কায় লোহার শাটার নামিয়ে রাখে।
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও সরকারি ব্যয়ের অগ্রাধিকার নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা আবাসন ও শিক্ষা খাতে আরও সরকারি সহায়তার দাবিতে আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
গ্রিসের বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, বর্তমান ভাতা ও শিক্ষা নীতি শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং তাঁদের পরিবারের ক্রমবর্ধমান আর্থিক চাপ সামাল দিতে যথেষ্ট নয়।
