শুক্রবার, ৮ই মে, ২০২৬   |   ২৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা শুরু করা ‘এমভি হোন্ডিয়াস’ নামক একটি প্রমোদতরিতে ভয়াবহ হান্টাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য মহলে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন যাত্রী ও ক্রু গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বর্তমানে জাহাজটি পশ্চিম আফ্রিকার কেপ ভার্দে দ্বীপপুঞ্জ হয়ে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এই ঘটনার পর যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং নেদারল্যান্ডস তাদের নাগরিকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছে এবং জাহাজ থেকে ফেরা ব্যক্তিদের কঠোর আইসোলেশনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞ ড. মারিয়া ভ্যান কেরখোভ জানিয়েছেন, হান্টাভাইরাস নিয়ে উদ্বেগের কারণ থাকলেও এটি কোভিড-১৯ এর মতো কোনো বৈশ্বিক মহামারি হওয়ার আশঙ্কা নেই। তাঁর মতে, এই ভাইরাসটি সাধারণ সামাজিক মেলামেশা বা বাতাসের মাধ্যমে সহজে ছড়ায় না; বরং এটি মূলত ইঁদুর বা বন্য রোডেন্ট-জাতীয় প্রাণীর মলমূত্র, লালা বা এদের কামড় থেকে ছড়ায়। তবে এবারের প্রাদুর্ভাবটি ‘আন্দিজ স্ট্রেইন’ (Andes strain) দ্বারা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা খুব ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমে মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে সক্ষম। প্রমোদতরির মতো সীমাবদ্ধ জায়গায় দীর্ঘ সময় একত্রে অবস্থানের কারণেই সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে প্রচণ্ড জ্বর, ক্লান্তি, পেশিতে ব্যথা এবং বমি বমি ভাব দেখা দেয়। সংক্রমণ তীব্র হলে শ্বাসকষ্টের মতো জটিল সমস্যা তৈরি হতে পারে। যদিও এই ভাইরাসের নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক নেই, তবে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হয়ে অক্সিজেন সাপোর্ট ও প্রাথমিক চিকিৎসা নিলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। বর্তমানে কন্টাক্ট ট্রেসিংয়ের মাধ্যমে জাহাজ থেকে নেমে যাওয়া যাত্রীদের খুঁজে বের করার কাজ চলছে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি 

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version