মঙ্গলবার, ৩১শে মার্চ, ২০২৬   |   ১৮ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাঙ্গেরিতে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় সরকারের পর এবার কঠোর অবস্থানে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় পৌরসভাগুলো। ২০২৫ সালে কার্যকর হওয়া বিতর্কিত ‘লোকাল আইডেন্টিটি প্রোটেকশন ল’ বা স্থানীয় পরিচয় সুরক্ষা আইনের দোহাই দিয়ে দেশটির প্রায় ২২৮টি পৌরসভা অভিবাসীদের আবাসন ও বসবাসের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘হাঙ্গেরি টুডে’-র তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাস নাগাদ এই পৌরসভাগুলো এমন সব নিয়মাবলী প্রণয়ন করেছে, যা কার্যত নির্দিষ্ট শহরগুলোতে নতুন বাসিন্দাদের আবাসনের অধিকারকে সীমিত করে দিয়েছে।

নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় বসবাস করতে হলে এখন থেকে হাঙ্গেরিয়ান ভাষায় বিশেষ দক্ষতা এবং স্থানীয় গণমাধ্যমের সঙ্গে পরিচিতির মতো কঠিন শর্ত পূরণ করতে হবে। সংবিধানের বিশেষ সংশোধনীকে পুঁজি করে স্থানীয় সরকারগুলো এখন বাসিন্দাদের নিবন্ধন নিয়ন্ত্রণ এবং এমনকি নতুন সম্পত্তি ক্রেতাদের ওপর চড়া হারে ‘বসতি ফি’ আরোপ করার আইনি ক্ষমতা লাভ করেছে। পরিসংখ্যান বলছে, এই আইন কার্যকর হওয়ার পর অবাঞ্ছিত বাসিন্দাদের আগমন ঠেকাতে নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী স্থানীয় প্রশাসনের সংখ্যা এক বছরের ব্যবধানে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হাঙ্গেরির এই পদক্ষেপ ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হলেও স্থানীয় পরিচয় রক্ষার নামে দেশজুড়ে এক ধরনের ‘অভিবাসী-বিদ্বেষী’ বলয় তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে যারা কর্মসংস্থান বা আশ্রয়ের খোঁজে হাঙ্গেরির বিভিন্ন শহরে বসতি গড়তে চাইছেন, তাঁদের জন্য এই আইন এক বিশাল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটির এই কঠোর অবস্থান ইউরোপের অন্যান্য দেশের অভিবাসন নীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version