শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬   |   ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে আর ঋণের বোঝা কমাতে মাত্র ১৫ দিন আগে পর্তুগালের মাটিতে পা রেখেছিলেন টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের সন্তান রাম প্রসাদ সরকার। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে প্রবাসের সেই রঙিন স্বপ্নগুলো মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফেরার অপেক্ষায়। গত ৩ মে বুকভরা আশা নিয়ে পর্তুগাল এলেও এক মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনায় সব স্বপ্ন ধুলোয় মিশে গেছে তাঁর।

পর্তুগালের দক্ষিণাঞ্চলীয় আলগার্ভের মেক্সিলহোইরা গ্রান্দে এলাকায় এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাটি ঘটে। ফারো ও পোর্তিমাওয়ের মাঝামাঝি একটি রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি ট্রেন রাম প্রসাদদের বহনকারী গাড়িটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। মুহূর্তেই চুরমার হয়ে যায় গাড়িটি। দুর্ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান রাম প্রসাদ। গাড়িতে থাকা আরও চারজন বাংলাদেশি গুরুতর আহত অবস্থায় বর্তমানে ফারো হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।

পাসপোর্টের পাতায় বিদেশের সিলটা এখনো টাটকা, পর্তুগালের আলো-বাতাসের সাথে ঠিকঠাক পরিচয় হওয়ার আগেই চিরবিদায় নিলেন এই রেমিট্যান্স যোদ্ধা। দেশে রেখে আসা স্ত্রী আর অবুঝ সন্তানের জন্য একটু ভালো থাকার যে লড়াই তিনি শুরু করেছিলেন, তা শুরু হওয়ার আগেই শেষ হয়ে গেল। ফারো হাসপাতালের মর্গে এখন বরফে ঢাকা পড়ে আছে তাঁর নিথর দেহটি। তাঁর এই অকাল মৃত্যুতে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে শোকের মাতম চলছে।

বর্তমানে ‘টাঙ্গাইল কমিউনিটি ইন পর্তুগাল’-এর সদস্যরা রাম প্রসাদের মরদেহ দ্রুত দেশের মাটিতে শেষবারের মতো পৌঁছে দিতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। শোকাতুর এই পরিবারটির শেষ সম্বলটুকু রক্ষা করতে এবং মরদেহ দেশে পাঠানোর খরচ জোগাতে স্থানীয় প্রবাসী ও দানশীল ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। আপনার সামান্য সহযোগিতাই পারে দিশেহারা এই পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে।

প্রবাসের এই অনিশ্চিত পথে রাম প্রসাদের এই অপূর্ণ স্বপ্ন আর পরিবারের ঋণের বোঝা আজ পর্তুগাল প্রবাসী বাংলাদেশিদের হৃদয়ে এক গভীর ক্ষত হয়ে রইল। পরবাসের রূঢ় বাস্তবতার মাঝে প্রতিটি প্রবাসীর সুরক্ষা ও সাবধানতা আজ সময়ের দাবি।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version