দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় বিরতির পর ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের আলোচনা পুনরায় শুরু করতে যাচ্ছে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের দ্বীপ রাষ্ট্র আইসল্যান্ড। গতকাল (৬ মার্চ) দেশটির সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে, ইইউ সদস্যপদ লাভের আলোচনা আবারও শুরু করা হবে কি না, তা নির্ধারণ করতে আগামী ২৯ আগস্ট দেশজুড়ে একটি সাধারণ গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
আইসল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টরুন ফ্রস্টাডত্তির জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহেই এই সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনা দেশটির পার্লামেন্টে পেশ করা হবে। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার কথা বিবেচনা করেই সরকার এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
উল্লেখ্য যে, ২০০৯ সালে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার কবলে পড়ে আইসল্যান্ড প্রথম ইইউ সদস্যপদের জন্য আবেদন করেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে মাছ ধরার কোটা এবং সার্বভৌমত্ব নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে ২০১৫ সালে দেশটির তৎকালীন সরকার আলোচনা স্থগিত করে দেয়। দীর্ঘ ১১ বছর পর বর্তমান সরকার মনে করছে, পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে আইসল্যান্ডের জন্য ইউরোপীয় জোটের অংশ হওয়া এখন সময়ের দাবি।
ইউরোপীয় কমিশন এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, আইসল্যান্ড ইইউ-এর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং মূল্যবান সহযোগী। গণভোটের রায় যদি ইতিবাচক হয়, তবে পুনরায় শুরু হওয়া আলোচনায় মাছ ধরার শিল্পের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে আইসল্যান্ডের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা হবে বলে সরকার নিশ্চয়তা দিয়েছে। ২৯ আগস্টের এই গণভোটই ঠিক করে দেবে আইসল্যান্ডের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক গতিপথ কোন দিকে যাবে।
