আয়ারল্যান্ড থেকে ২৪ জন পাকিস্তানি নাগরিককে জোরপূর্বক দেশে ফেরত পাঠানোর একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে খাবার পরিবেশন নিয়ে আয়ারল্যান্ডের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও মানবাধিকার মহলে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। সম্পূর্ণ মুসলিম যাত্রী নিয়ে ডাবলিন থেকে ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া ওই বিমানে সকালের নাস্তায় আইরিশ ঐতিহ্যবাহী প্রাতরাশ বা ‘ফুল আইরিশ ব্রেকফাস্ট’ দেওয়া হয়, যার মধ্যে ইসলাম ধর্মে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ (হারাম) শুকরের মাংসের সসেজ, বেকন এবং ব্ল্যাক পুডিং অন্তর্ভুক্ত ছিল। সম্প্রতি মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে প্রকাশিত একটি সরকারি মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এই তথ্য ফাঁস হওয়ার পর আয়ারল্যান্ডের অভিবাসন দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে বড় ধরণের প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর। আয়ারল্যান্ড সরকারের অবৈধ অভিবাসন বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে একটি এয়ারবাস এ৩৩০ (Airbus A330) বিমানে করে ২৪ জন পাকিস্তানি পুরুষকে (যার মধ্যে কিছু ব্যর্থ আশ্রয়প্রার্থী এবং অপরাধমূলক রেকর্ডধারী ব্যক্তি ছিলেন) ইসলামাবাদে ফেরত পাঠানো হয়। এটি ছিল পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে আয়ারল্যান্ডের প্রথম চার্টার্ড নির্বাসন ফ্লাইট। যাত্রার আগের রাতে ওই ব্যক্তিদের আয়ারল্যান্ডের বিভিন্ন কারাগারে রাখা হয়েছিল। পরদিন ফ্লাইটে ওঠার পর তাদের কোনো ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক বাধানিষেধের তোয়াক্কা না করে ঢালাওভাবে সাধারণ আইরিশ প্রাতরাশ পরিবেশন করা হয়। যদিও বিমানে হালাল খাবারের ব্যবস্থা রাখার নিয়ম রয়েছে, কিন্তু ফ্লাইটের মূল নির্দেশিকায় বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ না থাকায় ক্যাটারিং সংস্থাটি এই মারাত্মক ভুলটি করে।
ফ্লাইটটিতে আয়ারল্যান্ডের বিচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিযুক্ত একজন স্বাধীন মানবাধিকার পর্যবেক্ষক এবং আইরিশ পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, খোদ আইরিশ পুলিশের কর্মকর্তারাই এই খাবারের মান এবং পরিবেশন প্রক্রিয়ার তীব্র সমালোচনা করেছেন। পুলিশ কর্মকর্তারা এই খাবারকে “প্রত্যাশিত মানের চেয়ে নিম্নমানের” এবং মুসলিম দেশে ফেরত পাঠানো যাত্রীদের পাতে শুকরের মাংসের সসেজ দেওয়াকে “চরম অনুপযুক্ত ও অসংবেদনশীল” বলে উল্লেখ করেছেন। আইরিশ গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এভিয়েশন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ‘এয়ার পার্টনার’ দ্বারা পরিচালিত এই একক ফ্লাইটটির পেছনে আইরিশ করদাতাদের প্রায় ৪,৭৩,০০০ ইউরো ব্যয় হয়েছিল। মানবাধিকার পর্যবেক্ষকের তীব্র আপত্তির মুখে বিমান সংস্থা ‘এয়ার পার্টনার’ তাদের ভুল স্বীকার করেছে এবং ভবিষ্যতে এই ধরণের সংবেদনশীল ফ্লাইটে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক রীতিনীতি কঠোরভাবে বজায় রাখার জন্য তাদের ক্যাটারিং নির্দেশিকা সংশোধন করেছে।
তথ্যসূত্র: রয়া নিউজ ইংলিশ
