শনিবার, ১৬ই মে, ২০২৬   |   ২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রায় ৭ কোটি আইরিশ বংশোদ্ভূত মানুষের সাথে যোগাযোগ ও সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে পাঁচ বছর মেয়াদী নতুন ‘তৃতীয় ডায়াসপোরা স্ট্র্যাটেজি’ উন্মোচন করেছে আয়ারল্যান্ড সরকার। গত ১২ মে নিউ ইয়র্কের ‘আয়ারল্যান্ড হাউস’-এ এই মহাপরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন দেশটির আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ও ডায়াসপোরা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নিল রিচমন্ড। ২০২৫ সালের গ্রীষ্মে ১০ হাজার মানুষের ওপর পরিচালিত জরিপ এবং বিশ্বের ২৭টি শহরে আলোচনার ভিত্তিতে এই ৪৮ পৃষ্ঠার কৌশলগত পরিকল্পনাটি তৈরি করা হয়েছে।

এই পরিকল্পনার আওতায় যারা আয়ারল্যান্ডে ফিরে আসতে চান, তাদের জন্য ‘রিটার্নিং টু আয়ারল্যান্ড’ পোর্টালটি আরও আধুনিক ও সহজ করা হবে। প্রবাসীদের জন্য পাসপোর্ট নবায়ন এবং ‘ফরেন বার্থ রেজিস্ট্রেশন’ বা বংশগত নাগরিকত্ব প্রাপ্তির কাজ দ্রুততর করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে জরুরি ভ্রমণ নথির জন্য মাত্র ১৫ দিনের ‘টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম’ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতা লাঘব করবে।

বিদেশে অবস্থানরত আইরিশ গ্র্যাজুয়েটদের সাথে দেশের বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর সংযোগ ঘটিয়ে দিতে একটি ‘অ্যালুমনাই ও মেন্টরিং হাব’ তৈরি করা হবে। এছাড়া আইরিশ স্টার্টআপগুলো যখন বিদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ করবে, তাদের সহায়তার জন্য বস্টন ও সিডনিতে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ডায়াসপোরা ল্যান্ডিং প্যাড’ বা বিশেষ কো-ওয়ার্কিং স্পেস চালু করা হবে। এই সামগ্রিক প্রকল্প বাস্তবায়নে ২০২৭ সালে ১৫ মিলিয়ন ইউরো এবং ২০৩০ সাল নাগাদ ২০ মিলিয়ন ইউরো বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার।

প্রবাসীদের প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে এবং ভিসা সংক্রান্ত আইনি বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করতে এর মতো বিশেষায়িত সেবাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাদের ডেডিকেটেড পোর্টালের মাধ্যমে পাসপোর্ট নবায়ন ও নাগরিকত্ব নিবন্ধনের সর্বশেষ তথ্য পাওয়া যাবে। এছাড়া প্রতি বছর একটি ‘পাবলিক স্কোরকার্ড’ বা বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে এই পরিকল্পনার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হবে, যাতে সরকারি প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে প্রবাসীদের কাছে স্বচ্ছতা বজায় থাকে।

তথ্যসূত্র: ভিসাএইচকিউ ডটকম 

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version