রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬   |   ২৬শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেলারুশ সীমান্তে সশস্ত্র ব্যক্তিদের ‘আগ্রাসী উসকানির’ মুখে পড়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য রাষ্ট্র লাটভিয়ার সীমান্তরক্ষী বাহিনী। অভিবাসীদের সীমান্ত পার করানোর সময় পাহারারত সেনাদের হুমকি এবং পরবর্তীতে অবৈধভাবে লাটভিয়ায় ঢুকে নজরদারি সরঞ্জাম ধ্বংসের ঘটনায় পূর্ব ইউরোপের এই সীমান্ত জুড়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

লাটভিয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ৫ অক্টোবর অন্তত ২০ জন অনিয়মিত অভিবাসীকে সঙ্গে নিয়ে মুখোশধারী তিন সশস্ত্র ব্যক্তি লাটভিয়া-বেলারুশ সীমান্তে আসে। হ্যান্ডগানসহ বিভিন্ন ছোট অস্ত্রে সজ্জিত ওই ব্যক্তিরা সীমান্তে টহলরত লাটভিয়ান সেনাদের সহিংস আক্রমণের হুমকি দেয়। একই সঙ্গে অস্ত্রের মুখে অভিবাসীদের জোরপূর্বক সীমান্ত বেড়ার কাছাকাছি ঠেলে দেওয়া হয়।

লাটভিয়ার বর্ডার গার্ড প্রধান গুন্তিস পুজাতস জানান, সশস্ত্র ব্যক্তিরা সম্ভবত বেলারুশের রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা নয়, বরং আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য। তবে ঘটনার বিস্তারিত এখনও তদন্তাধীন। দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রী ইয়ানিস দোমব্রাভা সাংবাদিকদের জানান, প্রাথমিক ঘটনার সময় সশস্ত্র ব্যক্তিরা বেলারুশের সীমান্তের ভেতরেই অবস্থান করছিল।

তবে এর কয়েক ঘণ্টা পর ওই সশস্ত্র অনুপ্রবেশকারীরা গোপনে লাটভিয়ার ভেতরে প্রবেশ করে সীমান্ত নজরদারিতে ব্যবহৃত সিসিটিভি ও মনিটরিং সরঞ্জাম ভাঙচুর করে। শনাক্ত হওয়ার আগেই তারা দ্রুত সীমান্ত পেরিয়ে আবার বেলারুশে পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে লাটভীয় কর্তৃপক্ষ। দ্রুত এই নজরদারি ব্যবস্থা পুনরায় সচল করার কাজ চলছে।

মন্ত্রী দোমব্রাভা সতর্ক করে বলেছেন, মিনস্কের (বেলারুশ সরকার) সঙ্গে এই ঘটনার কোনো সরাসরি যোগসূত্র পাওয়া গেলে তার পরিণতি হবে অত্যন্ত ‘ভয়াবহ’। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, সীমান্তে এমন হুমকি মোকাবিলায় বর্ডার গার্ডকে আরও কঠোর ক্ষমতা দেওয়ার জন্য নতুন আইনের উদ্যোগ নিচ্ছেন তিনি।

লাটভিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, পূর্ব ইউরোপীয় মিত্র রাশিয়ার নির্দেশে বেলারুশ অনিয়মিত অভিবাসনকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে ইউরোপের বিরুদ্ধে ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ চালাচ্ছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকে লাটভিয়ার পাশাপাশি প্রতিবেশী লিথুয়ানিয়া ও পোল্যান্ড সীমান্তেও এমন চাপ কয়েক গুণ বেড়েছে।

লাটভিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এ পর্যন্ত বেলারুশ সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে প্রায় ১২ হাজার মানুষকে প্রতিহত করা হয়েছে। অথচ পুরো ২০২৫ সাল জুড়েই এই সংখ্যা ছিল ১২ হাজার ৪৬ জন; যা নির্দেশ করে যে বছর শেষে অনুপ্রবেশের এই সংখ্যা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে এই সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি ছিল। বেলারুশের এমন আক্রমণাত্মক কৌশলের জবাবে লাটভিয়াসহ প্রতিবেশী দেশগুলো তাদের সীমান্তজুড়ে সামরিক দুর্গ ও কাঁটাতারের প্রাচীর আরও জোরদার করছে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version