রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬   |   ২৬শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাজ্যের ডনকাস্টারের ইয়র্কশায়ার ওয়াইল্ডলাইফ পার্কে বাঘের হামলায় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার বিকেলে বাঘের বেষ্টনীর ভেতরে ঢুকে পড়ার পর প্রাণীটির আক্রমণের শিকার হন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, তাঁরা গুলির শব্দের মতো আওয়াজ শুনেছেন। এ সময় বাঘটি ওই ব্যক্তির ঘাড়ে কামড় বসায় বলে জানা গেছে।

দক্ষিণ ইয়র্কশায়ার পুলিশ জানায়, ডনকাস্টারের কাছে অবস্থিত পর্যটনকেন্দ্রটির বাঘের খাঁচায় এক ব্যক্তি প্রবেশ করেছেন—এমন খবর পেয়ে স্থানীয় সময় বেলা ১টা ৩৫ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় তারা। বেষ্টনীর ভেতরে ঢোকার পরই বাঘটি তাঁর ওপর হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনাটি নিহত ব্যক্তির পরিবারকে জানানো হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা তাঁদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছেন বলেও জানানো হয়েছে।

এ ঘটনার পর রোববারও ইয়র্কশায়ার ওয়াইল্ডলাইফ পার্ক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এক বিবৃতিতে পার্ক কর্তৃপক্ষ নিহত ব্যক্তির পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলার পরও বাঘটি অক্ষত অবস্থায় বেষ্টনীর ভেতরেই ছিল। ফলে সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের কোনো ঝুঁকি তৈরি হয়নি।

এ ছাড়া, ঘটনার কিছু ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়েও সতর্ক করেছে পুলিশ। বিবৃতিতে তারা বলেছে, এসব ভিডিও কেউ যেন শেয়ার না করেন।

এর আগে নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, ঘটনার পরপরই জরুরি সাড়াদান কার্যক্রম চালু করা হয়। ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে তারা।

৩৯ বছর বয়সী কারমেল পেলহাম পরিবারের সঙ্গে পার্কে বেড়াতে গিয়েছিলেন। এ সময় পার্কের কর্মীরা তাঁদের জানান, পুরো এলাকা খালি করে দেওয়া হচ্ছে।
পেলহাম জানান, তিনি গুলির শব্দের মতো আওয়াজ শুনেছিলেন। কিছুক্ষণ পর আকাশে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সকে চক্কর দিতে দেখেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বাঘের বেষ্টনীর ওপর একটি বড় কালো ত্রিপল টাঙানো ছিল।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় পার্ককর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, পুরো প্রক্রিয়াটি বেশ সুসংগঠিত ছিল।

২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ইয়র্কশায়ার ওয়াইল্ডলাইফ পার্ক। এর ‘ল্যান্ড অব দ্য টাইগার্স’ এলাকাটি চালু হয় ২০১১ সালে। প্রায় দুই একর আয়তনের এই সংরক্ষিত এলাকায় আমুর বা সাইবেরিয়ান বাঘ রাখা হয়। বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা এই উপপ্রজাতির বাঘের সংখ্যা বন্য পরিবেশে বর্তমানে প্রায় ৫০০।

পার্কের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, বাঘের বেষ্টনীর পাশ দিয়ে দর্শনার্থীদের হাঁটার জন্য একটি উঁচু পথ রয়েছে। বাঘের বিচরণক্ষেত্রের ওপরেও বিশেষ ধরনের বেড়া দেওয়া আছে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version