সোমবার, ৪ঠা মে, ২০২৬   |   ২১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পর্তুগাল ও স্পেনের পর এবার ইউরোপের ক্ষুদ্রতম দেশ মাল্টায় ‘ওভারট্যুরিজম’ বা অতিরিক্ত পর্যটকের উপস্থিতি নিয়ে সংকট ঘনীভূত হচ্ছে। ২০২৫ সালে রেকর্ড ৪ মিলিয়নেরও বেশি পর্যটক আগমনের ফলে দেশটির অর্থনীতিতে ৩.৯ বিলিয়ন ইউরোর জোয়ার এলেও, এর নেতিবাচক প্রভাবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, পর্যটন কেন্দ্রগুলোর নিকটবর্তী এলাকায় বসবাসরত ৫৯ শতাংশ মানুষই মনে করেন এই ভিড় এখন সহ্যের বাইরে চলে গেছে।

২০২৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মাল্টায় পর্যটক আগমন আগের বছরের তুলনায় ১৩.২ শতাংশ বেড়েছে। যার ফলে প্রতি বর্গকিলোমিটারে পর্যটকের ঘনত্বের বিচারে বিশ্বের শীর্ষ ষষ্ঠ স্থানে উঠে এসেছে এই দ্বীপরাষ্ট্রটি। বিশেষ করে গোজো এবং কমিনো দ্বীপের ‘ব্লু লেগুন’ দেখার জন্য পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় সামলাতে কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং পরিবেশ রক্ষায় জনপ্রিয় পর্যটন স্পটগুলোতে এখন “Book, Protect, Enjoy” নামক প্রি-বুকিং সিস্টেম বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

অতিরিক্ত পর্যটনের ফলে দেশটিতে যেমন আবাসন সংকট দেখা দিয়েছে, তেমনি অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয়। টাইমস অফ মাল্টার জরিপ অনুযায়ী, ৪৫ শতাংশ স্থানীয় বাসিন্দা পর্যটকের সংখ্যাকে ‘অত্যধিক’ বলে মনে করছেন। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য, ইতালি এবং পর্তুগাল থেকে আসা পর্যটকদের চাপে ভ্যালেটার মতো ঐতিহ্যবাহী শহরগুলোর স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হচ্ছে। অর্থনৈতিক লাভ এবং পরিবেশগত স্থিতিশীলতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা এখন মাল্টা সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তথ্যসূত্র: ইউরো নিউজ 

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version