বুধবার, ৮ই এপ্রিল, ২০২৬   |   ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

 উন্নত জীবনের স্বপ্নে ইউরোপের উদ্দেশে পাড়ি জমানো ১০৫ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর যাত্রা শেষ হলো এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডিতে। লিবিয়া উপকূলের কাছে ভূমধ্যসাগরে একটি কাঠের নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনায় অন্তত ৭০ জন নিখোঁজ হয়েছেন। ইতালির কোস্টগার্ড ও বেসরকারি উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর তৎপরতায় ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিক থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

লিবিয়ার তেলের খনি ‘বৌরি অয়েল ফিল্ড’ থেকে মাত্র ১৪ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। ইতালীয় এনজিও সংস্থা ‘মেডিটেরেনিয়া সেভিং হিউম্যান’ (MSH) জানিয়েছে, নৌকাটি লিবিয়ার তাজাউর শহর থেকে রওনা হয়েছিল। সাগরের উত্তাল ঢেউ এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কবলে পড়ে ভারসাম্য হারিয়ে নৌকাটি উল্টে যায়। উদ্ধারকৃত ৩২ জনই পুরুষ এবং তারা বাংলাদেশ ছাড়াও পাকিস্তান ও মিসরের নাগরিক। জার্মান সংস্থা ‘সি-ওয়াচ’-এর ড্রোন ফুটেজে দেখা গেছে, ডুবন্ত নৌকার তলায় বাঁচার আকুতি নিয়ে ঝুলে ছিলেন বেশ কয়েকজন।

উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, নিখোঁজ ৭০ জনের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল। সময় অতিবাহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের জীবিত উদ্ধারের আশা ক্ষীণ হয়ে আসছে। উদ্ধার করা ৩২ জন এবং দুটি মরদেহ ইতিমধ্যে ইতালির ল্যাম্পেদুসা দ্বীপে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। লিবিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন ‘সার্চ অ্যান্ড রেস্কিউ’ জোনে এই দুর্ঘটনা ঘটলেও মূলত ইতালীয় ও জার্মান সংস্থাগুলোই উদ্ধার কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছে। নিখোঁজদের সন্ধানে এখনো বিশাল জলরাশিতে তল্লাশি চালাচ্ছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসেই এই বিপজ্জনক রুট পাড়ি দিতে গিয়ে অন্তত ৭২৫ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী প্রাণ হারিয়েছেন অথবা নিখোঁজ হয়েছেন। উন্নত জীবনের আশায় এশিয়া ও আফ্রিকার হাজার হাজার মানুষ প্রতি বছর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লিবিয়া বা তুরস্ক উপকূল থেকে ইউরোপের পথে পা বাড়ান। উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলেছে, ইউরোপীয় দেশগুলো যদি আরও নিরাপদ ও মানবিক অভিবাসননীতি গ্রহণ না করে, তবে এই ‘মৃত্যুমিছিল’ থামানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version