স্পেনের ছিটমহল সেউতায় অভিবাসীদের ব্যাপক অনুপ্রবেশের ঘটনার জেরে অভিবাসন প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের নিয়মের ঘাটতি এবং শিথিল অভিবাসন নীতির সমালোচনা করেছেন পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টেনেগ্রো। তিনি বলেন, কিছু সরকারের এমন নীতি অভিবাসীদের উৎসাহিত করার পেছনে ‘সহায়ক শক্তি’ হিসেবে কাজ করেছে।
গত ৪ আগস্ট লিসবনের উত্তরে টোরেস ভেড্রাস পৌরসভার সাও পেড্রো দা কাদারিয়ায় পর্তুগালের প্রথম বেসরকারি পারিবারিক স্বাস্থ্য ইউনিটের উদ্বোধনার অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন। তবে এ সময় তিনি সরাসরি স্পেনের নাম নেননি।
পর্তুগালের বার্তা সংস্থা ‘লুসা’-র তথ্য অনুযায়ী, মন্টেনেগ্রো বলেন, ‘কেউ কেউ এমন নীতি গ্রহণের বিষয়ে জোর দেন যা প্রায়শই প্ররোচনামূলক বা অভিবাসীদের আকৃষ্ট করার প্রভাব তৈরি করে।’
তিনি আরও যোগ করেন, এ ধরনের সরকারগুলো উপযুক্ত আশ্রয় এবং তাদের মানিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত না করেই মানুষকে ডেকে আনে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পর্তুগাল কেবল সেটুকুই করছে যা করা প্রয়োজন। তিনি নবাগতদের মর্যাদার সাথে বেঁচে থাকার শর্ত হিসেবে কর্মসংস্থান, আবাসন এবং স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও যাতায়াত সুবিধার কথা উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের বিশেষ রাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে; কারণ পর্তুগাল ছিল ইইউর অল্প কয়েকটি সরকারের একটি, যারা স্পেনের অভিবাসন নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে দেওয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২২ জন নেতার যৌথ চিঠিতে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। ওই চিঠিতে স্বাক্ষরকারীরা সেউতার এই অনুপ্রবেশের ঘটনাকে মাদ্রিদের অভিবাসী নিয়মিতকরণ অভিযান এবং গত ৮ জুলাই স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া রায়ের (যা সমুদ্রপথে আসা অভিবাসীদের তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাঠানো নিষিদ্ধ করেছিল) সাথে যুক্ত করেছিলেন।
ফ্রান্সও এই চিঠিতে স্বাক্ষর করা থেকে বিরত ছিল। এ ছাড়া স্পেনের সাথে শেনজেন মুক্ত যাতায়াত চুক্তি স্থগিত করার জন্য ইতালি ও ডেনমার্কের করা প্রস্তাবগুলো আগেই প্রত্যাখ্যান করেছিল লিসবন।
স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রাক্কলন অনুযায়ী, গত ৩০ জুলাই থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় মরক্কো থেকে প্রায় ৭২ হাজার মানুষ অবৈধভাবে সেউতায় প্রবেশ করেছিলেন, যাদের বেশিরভাগই সাঁতরে এসেছিলেন এবং তাঁদের মধ্যে প্রায় ৭০ হাজার মানুষকে ইতিমধ্যে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হয়েছে। ছিটমহলের সরকারি প্রতিনিধি দলের তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় স্পেনের দিকে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫ জনে, এ ছাড়া মরক্কোর ভূখণ্ডে আরও ১১ জন মারা গেছেন।
মন্টেনেগ্রোর বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগে, ইইউ এবং শেনজেনভুক্ত দেশগুলোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা জোটের বহিরাগত সীমান্তকে শক্তিশালী করতে, অবৈধ অভিবাসীদের দ্রুত ফেরত পাঠাতে এবং আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হন। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটির সভাপতিত্ব করে আয়ারল্যান্ড, যারা বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাউন্সিলের সভাপতিত্ব করছে।
বৈঠকে পর্তুগালের প্রতিনিধিত্ব করেন দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রী লুইস নেভেস। তিনি বৈঠকে বলেন, এই ঘটনাটি ইউরোপে অবৈধ অনুপ্রবেশের সাম্প্রতিক নিম্নমুখী প্রবণতায় বড় ধরনের ছেদ ফেলেছে।
এক বিবৃতিতে তার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যেকোনো দেশের জাতীয় অভিবাসন নীতি অন্য সদস্য রাষ্ট্রের সীমানার বাইরেও প্রভাব ফেলে এবং এ ধরনের একতরফা পদক্ষেপ মানুষের প্রত্যাশা বাড়িয়ে দেয় ও অভিবাসনে প্ররোচিত করে। নেভেস অবশ্য জোর দিয়ে বলেন যে শেনজেন এলাকার অখণ্ডতা কখনোই হুমকির মুখে পড়েনি। তিনি সেউতার ভৌগোলিক অবস্থান এবং এর বিশেষ মর্যাদার কথা উল্লেখ করেন, যার কারণে মূল ভূখণ্ড ইউরোপে ভ্রমণের জন্য পৃথক তল্লাশির প্রয়োজন হয়।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বরাষ্ট্র ও অভিবাসন বিষয়ক কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার স্পেনের অভিবাসী নিয়মিতকরণ পরিকল্পনার সাথে সেউতার এই সংকটের সরাসরি কোনো সম্পর্ক থাকার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘এর উত্তর নিশ্চিতভাবেই না (no)।’
ব্রাসেলস সিগন্যাল
