শুক্রবার, ৭ই আগস্ট, ২০২৬   |   ২৩শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে উদ্দেশ্য করে কড়া ভাষায় একটি খোলা চিঠি লিখেছেন পর্তুগালের সাবেক তারকা ফুটবলার লুইস ফিগো। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘ডেইলি মেইল’-এ প্রকাশিত ওই চিঠিতে তিনি ফিফা সভাপতির পদত্যাগ দাবি করেছেন। বর্তমানে উয়েফা সভাপতি আলেকসান্দার সেফেরিনের অন্যতম উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত ফিগো গত কয়েক সপ্তাহের নানা ঘটনা নিয়ে নিজের ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

পদত্যাগের স্পষ্ট দাবি জানিয়ে ফিগো লিখেছেন, ‘আমি ফিফার সমস্যা নিয়ে ১০,০০০ শব্দ লিখতে পারি, তবে এর সমাধানের জন্য মাত্র তিনটি শব্দই যথেষ্ট: ‘ইনফান্তিনোকে যেতে হবে’। ফুটবলকে জীবনের পুরোটা সময় ভালোবেসেছি, ২০ বছর পেশাদার খেলোয়াড় ছিলাম। বিশ্বাস করুন, এই খেলায় অনেক বদমাশকে দেখেছি। কিন্তু গত ১০ দিনে যা প্রকাশ পেয়েছে, তা আমার দেখা সবচেয়ে নিকৃষ্ট, প্রতারণাপূর্ণ এবং কাপুরুষোচিত স্বার্থপর আচরণ।’

বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে ফিগো লিখেছেন, ‘যদি বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টের ২০% বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রি করা এতই ভালো পরিকল্পনা হতো, তবে বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে যখন সব সদস্যকে এক কক্ষে একত্র করা হয়েছিল, তখন কেন তা জানাননি? কেন সুবিধার পাশাপাশি ঝুঁকিগুলোর কথা বলেননি? আর যদি এই পরিকল্পনা এতই স্পষ্ট হতো, তবে কেন সত্যটা লুকালেন যে এটি বাস্তবায়িত হলে আপনার বছরে ৩০ মিলিয়ন ডলারের চাকরি সুনিশ্চিত হতো? এসবের কিছুই করা হয়নি, কারণ বিষয়টি মোটেই স্বচ্ছ বা ভালো কোনো প্রস্তাব ছিল না।’

নিয়মের অপব্যবহার ও অপশাসন প্রসঙ্গে ফিগোর বক্তব্য, ‘অনিয়মের এই দীর্ঘ তালিকা অবাক করার মতো নয়—শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত স্থগিত বা বাতিল করা থেকে শুরু করে হাফ-টাইম শোয়ের জন্য খেলার নিয়ম ভাঙা পর্যন্ত বন্ধুদের সন্তুষ্ট করতে কোনো কিছুই তার কাছে বাধা নয়। জর্ডান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি প্রিন্স আলির বক্তব্যও বিষয়টিকে স্পষ্ট করে, যিনি ইনফান্তিনোর নেতৃত্বাধীন ফিফার ‘মাফিয়া-সদৃশ’ আচরণের কথা ফাঁস করেছেন। ফুটবলকে নিয়ে অর্থের আলোচনা প্রয়োজন, তবে প্রাইভেট ইকুইটি বিনিয়োগকারীদের পকেট ভরানো বা কর্মকর্তাদের মোটা বেতনের বিষয়ে নয়।’

ইনফান্তিনোর প্রতি তীব্র অনাস্থা প্রকাশ করে শেষ আহ্বানে ফিগো লিখেছেন, ‘ইনফান্তিনো ফিফা সভাপতির পদটিকে মর্যাদাহীন করেছেন। তিনি খেলার স্বার্থ বিকিয়ে মিথ্যা বলেছেন, প্রতারণা করেছেন এবং নিজের পকেট ভরার চেষ্টা করেছেন। তিনি তার ব্যবস্থাপনা দল, ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা এবং ফুটবলকে ভালোবাসা বেশিরভাগ মানুষের সমর্থন হারিয়েছেন। তার মর্যাদা রক্ষা করার সময় আর নেই, তবে ফুটবলকে বাঁচানোর সময় এখনও আছে। তাকে এখনই চলে যেতে হবে।’

ডেইলি মেইল

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version