রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬   |   ৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউরোপের দেশগুলোর প্রতি রাশিয়ার কোনো আগ্রাসী উদ্দেশ্য নেই বলে দাবি করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে তিনি ইউরোপীয় প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন ও সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছেন।

গত শুক্রবার সামরিক-শিল্প কমিশনের এক বৈঠকে বক্তব্য রাখার সময় পুতিন অভিযোগ করেন যে, কিছু ইউরোপীয় নেতা রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং ইউক্রেন সংঘাত ও তথাকথিত ‘রুশ হুমকি’কে নিজেদের নীতি বাস্তবায়নের অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছেন।

পুতিন বলেন, ‘আমি আরও একবার স্পষ্টভাবে বলতে চাই: ইউরোপ বা ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি রাশিয়ার কোনো আগ্রাসী উদ্দেশ্য নেই। এর পেছনে কোনো ভিত্তিই নেই। আমরা আমাদের ইউরোপীয় প্রতিবেশীদের সঙ্গে সহযোগিতা এবং সম্পর্ক পুনর্স্থাপনের জন্য প্রস্তুত।’

তিনি বাল্টিক সাগরে ইউরোপীয় দেশগুলোর সামরিক মহড়ার সমালোচনা করে বলেন যে, ওই মহড়ায় বেসামরিক জাহাজ জব্দ করার প্রস্তুতিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। পুতিন বলেন, ‘তারা সবসময় আন্তর্জাতিক আইন ও এর নিয়মকানুন রক্ষার কথা বলে, অথচ তারা বেসামরিক জাহাজ জব্দের প্রস্তুতি নেয়।’ প্রয়োজন হলে মস্কো এর উপযুক্ত জবাব দেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আসুন আমরা শান্তিতে বসবাস করি—অন্যথায়, আমরাও জবাব দিতে বাধ্য হব।’

ইউক্রেনকে ইউরোপীয় মূল্যবোধ, সভ্যতা ও গণতন্ত্রের রক্ষাকর্তা হিসেবে চিত্রিত করার জন্য ইউরোপীয় নেতাদের সমালোচনা করে পুতিন প্রশ্ন তোলেন, কিয়েভ কীভাবে গণতন্ত্র রক্ষা করতে পারে যখন তাদের সরকার ‘একনায়কতন্ত্রে পর্যবসিত হয়েছে’। তিনি বলেন, ইউক্রেনে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে না এবং সেখানের কর্তৃপক্ষ ক্ষমতায় টিকে থাকতে সামরিক আইন ও যুদ্ধকে ব্যবহার করছে। এছাড়া তিনি ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের দায়ে অভিযুক্ত করেন। পুতিন বলেন, ‘আর এই পুরোপুরি দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার—সে কি সত্যিই ইউরোপে গণতন্ত্রের প্রধান রক্ষাকর্তা? বিষয়টি একটু অদ্ভুত শোনায়।’

পুতিন ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার নির্বাচনে হস্তক্ষেপের চেষ্টার অভিযোগ এনে জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের ওক্টিয়ার্সকোয়ে গ্রামে একটি প্রিসিং নির্বাচন কমিশনের প্রধানের বাড়িতে সাম্প্রতিক হামলার কথা উল্লেখ করেন, যেখানে ওই নারী নিহত হয়েছেন বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, কিয়েভ নেতৃত্ব শান্তি ও তথাকথিত আলোচনা পুনরায় শুরুর কথা বললেও এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা শান্তি ও আলোচনা ভণ্ডুল করার সব চেষ্টাই করে যাচ্ছে।

বৈঠকে পুতিন রাশিয়ার নতুন রাষ্ট্রীয় অস্ত্র কর্মসূচির অগ্রাধিকারগুলোও তুলে ধরেন। তিনি জানান, বৈশ্বিক হুমকি মোকাবেলায় সশস্ত্র বাহিনী ও প্রতিরক্ষা শিল্পের আধুনিকায়নের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে। পুতিন ঘোষণা করেন যে, রাশিয়ার ‘নিউক্লিয়ার ট্রায়াড’ বা পারমাণবিক ত্রয়ী শক্তিশালী করা এই কর্মসূচির ‘সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার’, যা দেশটির সার্বভৌমত্ব এবং বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখতে গ্যারান্টি স্বরূপ কাজ করবে। তিনি জানান, রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক মিসাইল ফোর্সের ৯২ শতাংশ বর্তমানে আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত রয়েছে।

এছাড়া বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জোরদারকরণ, মানবহীন ও রোবটিক সিস্টেমের সম্প্রসারণ, নিখুঁত লক্ষ্যভেদী অস্ত্র তৈরি এবং কক্ষপথে উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের কাজ সম্পন্ন করাকেও তিনি অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি জানান, এই স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক মহাশূন্যভিত্তিক গোয়েন্দাগিরি, নেভিগেশন, যোগাযোগ এবং ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সক্ষমতা উন্নত করার পাশাপাশি সেনা ও অস্ত্রের রিয়েল-টাইম কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করবে।


শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version