রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬   |   ৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উত্তর আফ্রিকার স্পেনীয় ছিটমহল সেউতায় সৈকত থেকে হাজারো অভিবাসীকে সরিয়ে নিতে অভিযান শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার অভিযান শুরুর সময় স্পেনের দাঙ্গা পুলিশ আকাশে রাবার বুলেট ছোড়ে এবং লাঠিচার্জ করে। এ সময় কয়েকজনকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রেও নেওয়া হয়।

জুলাইয়ের শেষ দিকে সেউতা সীমান্তে অভিবাসীদের নজিরবিহীন ঢল নামার পর এই অভিযান শুরু হলো। ওই সময় মরক্কো থেকে ৭২ হাজারের বেশি মানুষ সেউতায় প্রবেশ করেন। পরে বেশিরভাগই এলাকা ছেড়ে গেলেও স্পেনীয় কর্তৃপক্ষের হিসাবে প্রায় ১০ হাজার অভিবাসী এখনো সেখানে রয়েছেন।

কর্তৃপক্ষ সেউতার বন্দরে ১ হাজার ৭০০ জনের ধারণক্ষমতার একটি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করেছে। তবে বেসরকারি সংস্থাগুলো জানিয়েছে, হাজারো অভিবাসী এখনো আশ্রয়হীন অবস্থায় রয়েছেন এবং অস্থায়ী শিবিরে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছেন।

শুক্রবার সকাল ৭টার কিছু আগে সৈকত থেকে অভিবাসীদের সরানোর অভিযান শুরু হয়। এতে স্পেনের দাঙ্গা পুলিশের পাশাপাশি সামরিক বাহিনীর সদস্যরাও অংশ নেন।

রয়টার্স জানিয়েছে, অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে জায়গা পাওয়ার আশায় সৈকতে রাত কাটানো অভিবাসীরা অভিযান শুরুর সময় প্রথমে করতালি দিয়ে স্বাগত জানান। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সীমিতসংখ্যক আশ্রয়ের জায়গা পাওয়ার প্রতিযোগিতায় একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়।

সেউতায় এখনো থাকা অভিবাসীদের বেশিরভাগই পুরুষ ও কিশোর বলে জানা গেছে। অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রটি শুধু প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের জন্য তৈরি হওয়ায় অপ্রাপ্তবয়স্কদের আলাদা করে অন্যত্র রাখা হচ্ছে।

তিনটি বেসরকারি সংস্থার প্রধান রয়টার্সকে বলেন, ইউরোপীয় অভিবাসন চুক্তির আওতায় প্রয়োজনীয় ন্যূনতম আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে কর্তৃপক্ষ অনেক দেরি করেছে। তারা আরও বলেন, এখন পর্যন্ত চালু করা আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতেও রাস্তায় থাকা অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই।

একটি বেসরকারি সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, সেউতার সৈকত ও ফুটপাতে এখনো প্রায় ৪ হাজার অভিবাসী খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছেন। ফলে নতুন চালু হওয়া আশ্রয়কেন্দ্রটি জনসমাগমস্থল থেকে অস্থায়ী শিবিরগুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version