স্পেনে প্রায় ৬ লাখ অনিয়মিত অভিবাসীকে বৈধ করার পরিকল্পনা নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) শীর্ষ সম্মেলনে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, ইউরোপের অন্য দেশগুলো যেখানে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর হচ্ছে, সেখানে মাদ্রিদ ঠিক তার উল্টো পথে হাঁটছে। এই ঘটনায় ইউরোপীয় সোশ্যালিস্ট ঘরানার দুই শীর্ষ নেতা—ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী ও স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।
শুক্রবার ইইউ নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে ইউরোপীয় কমিশনের প্রতি স্পেনের এই নীতি নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান ফ্রেডেরিকসেন। তিনি বলেন, ‘যখন একটি দেশ আমাদের সবার নেওয়া নীতির প্রায় ঠিক উল্টো কাজটি করে, তখন কী ধরনের পরিণতি হতে পারে—তা খতিয়ে দেখতে আমি ইউরোপীয় কমিশনকে অনুরোধ জানিয়েছি।’
উভয় নেতাই ইউরোপের মধ্য-বামপন্থি সমাজতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিবারের অংশ হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের মধ্যে এই গভীর মতবিরোধ দেখা দিল; যদিও সমাজতান্ত্রিক দলগুলো ঐতিহ্যগতভাবেই অভিবাসন বিষয়ে তুলনামূলক নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে থাকে।
স্পেন সরকার গত বছরের জানুয়ারিতে প্রায় ৫ লাখ অনিবন্ধিত অভিবাসীকে বৈধতা দেওয়ার এক অধ্যাদেশ অনুমোদন করেছিল। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সে সময় এই পদক্ষেপকে মানবাধিকার, একীভূতকরণ, সহাবস্থান এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি অভিবাসন মডেল হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন।
স্পেনের এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করে ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি এটি বর্তমান ইউরোপের বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর সমর্থিত অভিবাসন নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থি।’
ডেনমার্কের আশঙ্কা, স্পেনের এই গণ-বৈধকরণের উদ্যোগ ইউরোপের দিকে আরও বেশি অনিয়মিত অভিবাসীদের টেনে আনার ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রলুব্ধকর উপাদান (পুল ফ্যাক্টর) হিসেবে কাজ করবে। তবে অন্য একটি ইইউ দেশের এক কূটনীতিক ইউরোনিউজকে জানিয়েছেন, ডেনমার্ক শীর্ষ সম্মেলনের যৌথ ঘোষণাপত্রে কিছু অদ্ভুত বা অবাস্তব সংশোধনী আনার চেষ্টা করেছিল।
অভিবাসন নিয়ে সানচেজ ও ফ্রেডেরিকসেনের মধ্যকার এই বিরোধ অবশ্য নতুন নয়। ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরেই কঠোর অভিবাসন নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। এর আগে গত জুন মাসে অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনেও এই দুই নেতার মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছিল, যেখানে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি প্রকাশ্যে ফ্রেডেরিকসেনকে সমর্থন জানিয়েছিলেন।
বর্তমানে অনিয়মিত অভিবাসী আগমন ঠেকাতে ইউরোপজুড়ে যে কট্টর পদক্ষেপের জোয়ার চলছে, তার অগ্রভাগে রয়েছেন ফ্রেডেরিকসেন ও মেলোনি। এর অংশ হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে ব্যর্থ বা প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের ফেরত পাঠানোর জন্য তৃতীয় দেশে ‘রিটার্ন হাব’ বা বন্দিশিবির স্থাপনে জার্মানি, অস্ট্রিয়া, গ্রিস এবং নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে ডেনমার্ক।
