মঙ্গলবার, ১৭ই মার্চ, ২০২৬   |   ৪ঠা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুইজারল্যান্ড সরকার ঘোষণা করেছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তারা যুক্তরাষ্ট্রের দুটি নজরদারি বিমানের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। শনিবার গভীর রাতে দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সুইজারল্যান্ডের নিরপেক্ষতা আইন অনুযায়ী যুদ্ধের সাথে জড়িত কোনো পক্ষ সামরিক উদ্দেশ্যে তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে না।

সুইজারল্যান্ডের কঠোর নিরপেক্ষতা আইন অনুযায়ী, কোনো সশস্ত্র সংঘাতের সময় বিবাদমান দেশগুলো যদি সামরিক লক্ষ্য অর্জনে সুইস আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি চায়, তবে তা সরাসরি নিষিদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্রের এই নজরদারি বিমানগুলোর মিশন সামরিক গোয়েন্দা তথ্যের সাথে সম্পর্কিত হওয়ায় এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

তবে এই আইন মানবিক সহায়তা, চিকিৎসা সংক্রান্ত যাতায়াত এবং যুদ্ধের সাথে সরাসরি সম্পর্কহীন ফ্লাইটের ক্ষেত্রে বাধা দেয় না।

সুইজারল্যান্ড জানিয়েছে, তারা গত রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সাধারণ পরিবহন বিমানকে তাদের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিল। এছাড়া মঙ্গলবার একটি নতুন সার্ভিসিং করা বিমানের ট্রানজিটের জন্যও ক্লিয়ারেন্স প্রদান করা হয়েছে। অর্থাৎ, বিমান চলাচলের উদ্দেশ্য সামরিক নাকি সাধারণ—তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করার পরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ইউরোপের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত হওয়ার কারণে সুইজারল্যান্ডের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বেশ গুরুত্ব বহন করে। বিশেষ করে যখন মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা বিশ্বব্যাপী প্রভাব ফেলছে, তখন সুইস সরকারের এই অনমনীয় অবস্থান তাদের নিরপেক্ষতার ভাবমূর্তিকে আরও শক্তিশালী করল।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version