রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬   |   ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসনের দীর্ঘদিনের জটিল সমস্যা সমাধানে অবশেষে মাঠপর্যায়ে কার্যকর হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘ইইউ অভিবাসন চুক্তি’। ২০১৫ সালে তৎকালীন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের অভিবাসন-বান্ধব মন্তব্যের পর থেকে এই সংকট আরও তীব্র রূপ নেয়। দীর্ঘ টানাপোড়েন শেষে মূলত সমুদ্রসীমান্তে নজরদারির জটিলতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ—গ্রিস, স্পেন, সাইপ্রাস এবং ইতালির ক্রমাগত চাপের মুখেই এই যৌথ ও সুসংহত অভিবাসন নীতি প্রণয়ন করেছে ইইউ। এই নতুন ব্যবস্থার অধীনে ইইউ-এর প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রকে অভিবাসী গ্রহণের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সংহতি বজায় রাখতে হবে।

এই চুক্তির মাধ্যমে ডাবলিনের পুরনো ‘প্রথম দেশ’ নিয়মটি পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে, যেখানে আগে প্রথম প্রবেশকারী দেশের ওপরই অভিবাসীর সম্পূর্ণ দায়িত্ব বর্তাত। এর পরিবর্তে চালু হয়েছে ‘বাধ্যতামূলক সংহতি’ নীতি। এখন থেকে সদস্য দেশগুলোকে হয় জনসংখ্যা ও জিডিপির ভিত্তিতে নির্দিষ্ট সংখ্যক অভিবাসী গ্রহণ করতে হবে, অন্যথায় আর্থিক জরিমানা দিতে হবে কিংবা অবকাঠামোগত তহবিল সরবরাহ করতে হবে। এই ব্যবস্থার আওতায় ইইউ দেশগুলোকে তিনটি শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়েছে:

উপকারভোগী দেশ: সাইপ্রাস, গ্রিস ও স্পেন। এখানকার অভিবাসীদের অন্য দেশে পুনর্বণ্টন করা হবে এবং তারা সরাসরি আর্থিক সহায়তা পাবে।

চাপের মুখে থাকা দেশ: পোল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, অস্ট্রিয়া, এস্তোনিয়া এবং চেকিয়া।

সহায়তাকারী দেশ: বাকি সকল সদস্য রাষ্ট্র, যারা অভিবাসী গ্রহণ বা আর্থিক অবদানের মাধ্যমে সংকট সমাধানে সাহায্য করতে বাধ্য থাকবে।

সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জন্য স্থানান্তরিত মানুষের সংখ্যা প্রায় ২১,০০০ জনে পৌঁছাতে পারে, যদিও স্লোভাকিয়া ও হাঙ্গেরি ইতিমধ্যেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে তারা কাউকে গ্রহণ করবে না।

ইউক্রেন যুদ্ধজনিত বিপুল শরণার্থীর আগমন এবং বেলারুশ সীমান্তে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অভিবাসন সংকটের কারণে পোল্যান্ডকে ২০২৬ সাল থেকে অভিবাসী স্থানান্তরের বাধ্যবাধকতা থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি বা ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে এই ছাড় স্থায়ী নয়। ইউরোপীয় কমিশন প্রতি বছরের মাঝামাঝি এবং ডিসেম্বরে বার্ষিক প্রতিবেদনের মাধ্যমে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করবে। যদি কমিশন মনে করে পোল্যান্ডের ওপর চাপ কমেছে, তবে এই অভিবাসী গ্রহণের বাধ্যবাধকতা তাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

প্রচলিত বিশ্বাসের বিপরীতে, নতুন এই অভিবাসন চুক্তিতে ইইউ-এর বাইরে কোনো ‘প্রর্ত্যাবর্তন কেন্দ্র’ বা ডিটেনশন সেন্টার তৈরির বিধান নেই। এটি মূলত ‘প্রত্যাবর্তনকারী অভিবাসীদের জন্য একটি সাধারণ ব্যবস্থা বিষয়ক প্রবিধান’ নামক সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি নথিতে রয়েছে।

এই ভিন্ন প্রবিধানে আটকাদেশের মেয়াদ দুই বছর পর্যন্ত বাড়ানো এবং দ্বৈত-প্রবেশ নিষেধাজ্ঞার মতো কঠোর বিধান রয়েছে, যা আগামী সপ্তাহে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ভোটের জন্য পেশ করা হবে। ইতালির জর্জিয়া মেলোনির সরকার আলবেনিয়ার সাথে এমন চুক্তি করে আগে আইনি জটিলতায় পড়লেও, নতুন প্রবিধানটি এই আইনি ধোঁয়াশা দূর করবে। এখন বাকি চ্যালেঞ্জটি হবে আর্থিক প্রণোদনার মাধ্যমে ইইউ-বহির্ভূত দেশগুলোকে এই ধরনের চুক্তিতে রাজি করানো।

তথ্যসূত্র: ইউরো নিউজ 

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version