ফ্রান্সে তরুণদের নেতৃত্বে চলা বিক্ষোভের ঢেউ এবার ছড়িয়ে পড়েছে সুইজারল্যান্ডেও। দেশটির জুরিখ ও বাসেল শহরে শনিবার রাতে কয়েক শ মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে দুই শহরেই বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।
‘সুইজারল্যান্ডেও আমরা আর সহ্য করব না’—এই স্লোগানে আয়োজিত বিক্ষোভের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ঘটনায় দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জুরিখে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ
শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে জুরিখের ল্যাংস্ট্রাসে এলাকায় কয়েক শ বিক্ষোভকারী জড়ো হন। তাঁদের কারও কারও মুখে ছিল হ্যালোইন উপলক্ষে ব্যবহৃত মুখোশ। এ সময় আতশবাজি ও পটকা ফোটান বিক্ষোভকারীরা। পরে তাঁরা শহরের প্রধান রেলস্টেশনের কাছের হেলভেটিয়াপ্লাৎস চত্বরের দিকে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যান।
সেখানে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা একটি বাসস্টপের ছাউনি ভাঙচুর করেন। ময়লার পাত্র, সাইকেলসহ বিভিন্ন জিনিস জড়ো করে তৈরি করেন ব্যারিকেড। পরে তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। এরপর শহরের বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে ময়লার পাত্রে আগুন দেন বিক্ষোভকারীরা। একটি গাড়িতেও আগুন দেওয়া হয়। এ ছাড়া কয়েকটি দোকানের জানালার কাচ ভাঙচুর করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, বিক্ষোভকারীরা বারবার তাদের লক্ষ্য করে আতশবাজি, বোতল ও পাথর ছুড়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে। রাত দেড়টা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলে।
এ ছাড়া চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে পুলিশের একটি টহল দলের ওপর হামলা হয়। এতে পুলিশের গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কর্মকর্তারা পিছু হটতে বাধ্য হন।
ওই ঘটনায় এক কিশোরের পা গুরুতর আহত হয়েছিল। তাকে চিকিৎসা দিতে যাচ্ছিল পুলিশের দলটি। তবে হামলার কারণে কর্মকর্তারা আহত কিশোরের কাছে পৌঁছাতে পারেননি।
বাসেলেও বিক্ষোভ, স্লোগান ‘জেনজি রেগেল্ট’
বাসেল ক্যান্টন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত ৯টার দিকে শহরের কেন্দ্রস্থলে প্রায় ১৫০ জন বিক্ষোভকারী জড়ো হন।
কয়েকটি বক্তব্য দেওয়ার পর তাঁরা মিছিল নিয়ে মিটলেরে রাইনব্রুকে সেতু পার হয়ে মার্কটপ্লাৎসের দিকে যান। পরে সেন্ট ইয়োহান এলাকায় প্রবেশ করেন। সেখানে কয়েকজন বিক্ষোভকারী ময়লার পাত্র ও ধাতব প্রতিবন্ধক দিয়ে তৈরি ব্যারিকেডে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে।
বিক্ষোভে ইউরোপের অন্যান্য দেশের তরুণদের আন্দোলনের প্রভাবও স্পষ্ট ছিল। আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীরা ফ্রান্সের সাম্প্রতিক বিক্ষোভ-সহিংসতার সঙ্গে নিজেদের আন্দোলনের তুলনা করেন।
এদিকে, গত কয়েক দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বিক্ষোভের আহ্বানে ‘জেনজি রেগেল্ট!’ স্লোগান ব্যবহার করা হয়েছে। জার্মানির তরুণ বিক্ষোভকারীদের মধ্যেও পরিচিত এই স্লোগানটির অর্থ ‘জেনারেশন জেডের নিয়ন্ত্রণ’।
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তরুণদের বিক্ষোভে একই ধরনের স্লোগান ও প্রতিবাদের ভাষার ব্যবহার থেকে আন্দোলনগুলোর মধ্যে পারস্পরিক প্রভাবের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
