চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে ইউক্রেনকে দেওয়া সামরিক সহায়তা ও গোলাবারুদের অর্থ ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছ থেকে ফেরত চাওয়ার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে মিত্র দেশগুলোর কাছে অস্ত্র বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুত ‘মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ার’ খবর নাকচ করেন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত গোলাবারুদের উৎপাদন বাড়াচ্ছে এবং নিজস্ব মজুতও পুনর্গঠন করছে।
ট্রাম্প বলেন, অন্যদের কাছে অস্ত্র বিক্রি না করে আপাতত সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নিজেদের ব্যবহারের জন্য রাখা হচ্ছে। তবে শিগগিরই মিত্র দেশগুলোর কাছে অস্ত্র বিক্রি আবার শুরু হবে বলেও জানান তিনি।
সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, ইউক্রেন ও ন্যাটোকে ‘কোনো চার্জ ছাড়াই’ বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, এসব অর্থ ইউরোপীয় দেশগুলোরই পরিশোধ করার কথা ছিল।
ট্রাম্প বলেন, ‘যদি শুধু তাদের কাছে চাওয়া হতো।’ তবে এখন কিছুটা দেরিতে হলেও যুক্তরাষ্ট্র সেই অর্থ ফেরত চাইবে বলে জানান তিনি।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো ‘প্রায়োরিটাইজড ইউক্রেন রিকোয়ারমেন্টস লিস্ট’ (PURL) নামে একটি উদ্যোগ নেয়। এর আওতায় ইউরোপীয় দেশগুলো অর্থ পরিশোধ করে ইউক্রেনের জন্য মার্কিন অস্ত্র কিনে থাকে।
এর আগে গত মাসে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের সময় মার্কিন সামরিক বাহিনী দূরপাল্লার নির্ভুল নিশানার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতের বড় একটি অংশ ব্যবহার করেছে। এতে ভবিষ্যৎ সংঘাত মোকাবিলায় মার্কিন সামরিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে ইউক্রেন ও ইরানের যুদ্ধ এবং এর অর্থনৈতিক প্রভাব আগামী বছর মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষে রিপাবলিকান পার্টির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বৃহস্পতিবার বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলা এবং তেহরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের নতুন হুমকির কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কা আবারও জোরালো হয়েছে।
এদিকে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়ার জন্য ইউক্রেনের সাম্প্রতিক হামলাকেও আংশিকভাবে দায়ী করেছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।
বুধবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, ইউক্রেন ও ইরানের সংঘাত—দুই কারণেই বিশ্ব এখন জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি। তাঁর দাবি, রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো ও পরিশোধিত তেলের ওপর ইউক্রেনের হামলা বৈশ্বিক জ্বালানির দাম বাড়ানোর চাপ তৈরি করছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইরানের সংঘাত।
