শনিবার, ২রা মে, ২০২৬   |   ১৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পর্তুগালের লিসবনে যখন প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাফল্য নিয়ে আলাপ হয়, তখন এখন আর কেবল স্থানীয় ব্যবসার কথা ওঠে না। পর্তুগাল থেকে গিয়ে ইউরোপের বড় বড় শহরে প্রবাসীরা কীভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, সেই আলোচনা এখন তুঙ্গে। এই আলোচনার কেন্দ্রে আছেন বরিশালের সন্তান মিজানুর রহমান খান। লিসবন প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে অত্যন্ত পরিচিত এই মুখ এখন লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে লড়ছেন।

লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেল এলাকাটি এখন প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। আগামী ৭ মে এই এলাকার মানুষ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনে ভোট দেবেন। মিজানুর রহমান খান সেখানে ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট পার্টি’ থেকে কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁর এই লড়াইয়ের পেছনের গল্পটি শুরু হয়েছিল পর্তুগালের লিসবনে। লন্ডনে স্থায়ী হওয়ার আগে তিনি বেশ কয়েক বছর লিসবনে ছিলেন এবং প্রবাসীদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার ছিলেন। ‘সেভ বাংলাদেশ পর্তুগাল’ এবং ‘বাংলাদেশ সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন পর্তুগাল’ গড়ে তুলে তিনি প্রবাসীদের আইনি ও সামাজিক সহায়তা প্রদান করতেন। লিসবন প্রবাসীরা এখনো তাকে নিজেদের একজন মনে করেন এবং পর্তুগাল থেকেই তার নির্বাচনী প্রচারণায় সমর্থন জানাচ্ছেন।

মিজানুর রহমানের রাজনীতির হাতেখড়ি হয়েছিল ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখান থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স শেষ করেন। বর্তমানে তিনি পেশায় একজন ট্রেইনি ব্যারিস্টার। তাঁর দল ‘টিম হোয়াইটচ্যাপেল’ অঙ্গীকার করেছে, জয়ী হলে তারা এলাকার জরাজীর্ণ কাউন্সিল হাউসের দ্রুত মেরামত, পুলিশের টহল বৃদ্ধি এবং পার্কিং সমস্যার সমাধান করবেন। মিজানের সঙ্গে এই লড়াইয়ে আরও আছেন আলী আকবর, আব্দুল বশীর এবং মেয়র প্রার্থী ব্যারিস্টার জামি আলী। বিদেশের মাটিতে সক্রিয় রাজনীতির পাশাপাশি বরিশালে নিজের নামে প্রতিষ্ঠিত ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে গরিব মানুষদের শিক্ষা ও চিকিৎসায় সহায়তা দিয়ে আসছেন তিনি।

লিসবনের রাজপথ থেকে লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেল মিজানুর রহমানের এই লড়াই এখন প্রবাসীদের মাথা তুলে দাঁড়ানোর এক নতুন প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version