শনিবার, ২৩শে মে, ২০২৬   |   ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের মেট্রো রেলের উড়াল লাইনের নিচে এখনও টিকে আছে প্রায় ৮০০ অনিয়মিত অভিবাসীর একটি বিশাল অস্থায়ী ক্যাম্প। শহরটির উত্তর-পূর্ব অংশের ২ নম্বর মেট্রো লাইনের নিচে কলোনেল ফাবিয়া এবং লা শাপেল স্টেশনের মাঝামাঝি এলাকায় গড়ে ওঠা এই অস্বাস্থ্যকর বসতিটি বর্তমানে প্যারিসের সবশেষ বড় অনানুষ্ঠানিক ক্যাম্প। এখানে বসবাসকারী অভিবাসীদের অধিকাংশই সুদান, ইরিত্রিয়া এবং আফগানিস্তান থেকে এসেছেন, যারা তীব্র শব্দ ও ধুলোবালির মধ্যে তাঁবু, পুরোনো সোফা এবং নষ্ট গদিতে কোনোমতে দিন পার করছেন।

বিগত ১০ বছর ধরে ফরাসি কর্তৃপক্ষ “স্থায়ী জমায়েত রোধ” নীতির আওতায় নতুন ক্যাম্প গড়ে উঠলেই তা সহিংসভাবে উচ্ছেদ করে আসছিল। এমনকি ২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিক গেইমসের আগে ও চলাকালে সরকারের বিরুদ্ধে “সামাজিক পরিচ্ছন্নতা অভিযান” চালানোর অভিযোগ তোলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো। মেদসাঁ-দ্যু-মোন্দ (এমডিএম)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ বছরে এই অঞ্চলে প্রায় চারশটি উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তবে অলিম্পিক পরবর্তী সময়ে প্রায় এক বছর ধরে এই ক্যাম্পে বড় ধরনের কোনো উচ্ছেদ হয়নি। অভিবাসন সংস্থাগুলোর মতে, পুলিশের হয়রানি আগের চেয়ে কমেছে এবং কর্তৃপক্ষ বর্তমানে এই এলাকাটিকে এক ধরণের ‘বাফার জোন’ হিসেবে ব্যবহার করতে দিচ্ছে।

দাতব্য সংস্থাগুলোর মতে, ফ্রান্সে আশ্রয় আবেদন করার পর প্রথম দিকে যাওয়ার মতো কোনো রাষ্ট্রীয় আশ্রয়কেন্দ্র না থাকায় মানুষ এই অমানবিক পরিস্থিতিতে রাস্তায় ঘুমাতে বাধ্য হন। আবার অনেক সময় রাষ্ট্রীয়ভাবে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হলেও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে মাত্র কয়েকদিন পরই তাদের বের করে দেওয়া হয়। ২২ বছর বয়সি সুদানি অভিবাসী আহমেদ ইব্রাহিম জানান, তিনি দুই বার আশ্রয়কেন্দ্রে গেলেও দুই সপ্তাহ পর তাকে চলে যেতে বলা হয়, ফলে তিনি আবার এই ক্যাম্পেই ফিরে এসেছেন। এছাড়া ডাবলিন বিধিমালার আওতায় থাকা আশ্রয়প্রার্থী এবং শরণার্থী মর্যাদা পাওয়া লোকজনও আইনি জটিলতা বা কাজের সন্ধানে এখানে অবস্থান করছেন।

গত মার্চে প্যারিসের নতুন মেয়র নির্বাচিত হওয়া ফরাসি সোশ্যালিস্ট পার্টির নেতা এমানুয়েল গ্রেগোয়া এই অনানুষ্ঠানিক বসতির অন্তহীন চক্র বন্ধে স্থায়ী সমাধানের কথা জানিয়েছেন। ইতিমধ্যে তিনি এলাকাটি পরিদর্শন করে বড় আবাসন কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য তার প্রস্তুতি প্রকাশ করেছেন। ইতিপূর্বে ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে সাবেক মেয়রের উদ্যোগে নির্মিত মানবিক কেন্দ্র “লা বুল”-এর আদলে নতুন জরুরি আবাসন কেন্দ্র তৈরির সম্ভাবনাও আলোচনা হচ্ছে। তবে অভিবাসন সংস্থাগুলো মনে করছে, মেয়রের এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ফরাসি রাষ্ট্রের নীতিগত সহযোগিতা ও সদিচ্ছা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

তথ্যসূত্র: ইনফো মাইগ্রেন্টস বাংলা

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version