প্রশাসনের জারি করা কঠোর নিষেধাজ্ঞা শেষ মুহূর্তে বাতিল করে দিয়েছেন উচ্চ আদালত। সরকারের পক্ষ থেকে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির অজুহাত দেখানো হলেও আদালত তা মানেননি। এর ফলে উত্তর প্যারিসে মুসলিমদের বিশাল এক সম্মেলন পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হচ্ছে। স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় অনুষ্ঠান শুরুর মাত্র দুই ঘণ্টা আগে প্রশাসনিক আদালতের এই রায় জনমনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
প্যারিস পুলিশ বিভাগ দাবি করেছিল, ফ্রান্সের মুসলমানদের এই চার দিনব্যাপী বার্ষিক মিলনমেলা একটি নিরাপত্তা হুমকি এবং এটি সন্ত্রাসবাদের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এমনকি উগ্র ডানপন্থী দলগুলোর পাল্টা বিক্ষোভের আশঙ্কাও প্রকাশ করেছিল প্রশাসন। তবে আদালত তার রায়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন, পুলিশের দেওয়া তথ্যে এই ধরনের কোনো সুনির্দিষ্ট ঝুঁকির প্রমাণ মেলেনি। আয়োজকদের নিজস্ব পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার আশ্বাসে পুলিশের দেওয়া ‘সম্পদের ওপর চাপের’ যুক্তিও খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।
মুসলিমস অফ ফ্রান্স’ নামক সংগঠনের এই সম্মেলনটি আংশিক সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় এবং আংশিক বাণিজ্য মেলা হিসেবে পরিচিত। ২০১৯ সালের পর থেকে এটি বন্ধ ছিল। আয়োজকদের আইনজীবী সেফেন গেজ গেজ আদালতে যুক্তি দেন যে, এই নিষেধাজ্ঞাটি ‘মৌলিক স্বাধীনতা’ এবং ‘সমাবেশের অধিকারের’ সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকারের প্রস্তাবিত নতুন ‘বিচ্ছিন্নতাবাদ-বিরোধী’ আইনের প্রচারণার অংশ হিসেবেই এই আয়োজনটি বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
এই আইনি লড়াই এমন এক সময়ে ঘটল যখন দেশটি একটি নতুন ‘বিচ্ছিন্নতাবাদ-বিরোধী’ আইনের পরিকল্পনা করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ জানিয়েছেন, প্রজাতন্ত্রের নীতির পরিপন্থী ধারণা প্রচারকারী সংগঠনগুলোকে নিয়ন্ত্রণে এই আইন আনা হচ্ছে। তবে এবারের আদালতের রায়টি সরকারের সেই কঠোর অবস্থানকে বড় ধরনের ধাক্কা দিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এখন পুরো ইউরোপ থেকে আসা হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে শুরু হয়েছে চার দিনব্যাপী এই মুসলিম সম্মেলন।
