ফ্রান্সে বসবাসরত অভিবাসীদের রেসিডেন্স পারমিট সংক্রান্ত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘আনেফ’ (ANEF)-এর সব কারিগরি ত্রুটি ঠিক করতে দেশটির সরকারকে ছয় মাসের সময় বেঁধে দিয়েছে সর্বোচ্চ প্রশাসনিক আদালত ‘কনসেই দেতা’। মঙ্গলবার (৫ মে ২০২৬) আদালত এক নির্দেশনায় জানিয়েছে, প্ল্যাটফর্মটির যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অভিবাসীরা তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আদালতের এই রায়কে অভিবাসন সংস্থাগুলো একটি বড় জয় হিসেবে দেখছে, কারণ এর ফলে রাষ্ট্র এখন থেকে ডিজিটাল সেবা কার্যকরভাবে নিশ্চিত করতে বাধ্য থাকবে।
বর্তমানে ফ্রান্সে রেসিডেন্স পারমিট আবেদন, নবায়ন বা ঠিকানা পরিবর্তনের মতো সব কাজ বাধ্যতামূলকভাবে কেবল ‘আনেফ’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেই করতে হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই এই সাইটে অসংখ্য প্রযুক্তিগত সমস্যা বিদ্যমান। অনেক অভিবাসী আবেদন করার পর মাসের পর মাস কোনো উত্তর পাচ্ছেন না, আবার অনেকের ফোন নম্বর বা ঠিকানা সিস্টেমে সঠিকভাবে সংরক্ষিত হচ্ছে না। ফলে সময়মতো বৈধ কাগজপত্র না পেয়ে অনেকে চাকরি, বাসস্থান ও সামাজিক সুযোগ-সুবিধা হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছেন। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, সরকারকে এই অনলাইন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত করতে হবে এবং আবেদনের সময়কালীন অন্তর্বর্তীকালীন অধিকার নিশ্চিত করতে ‘এপিআই’ সনদ সময়মতো প্রদান করতে হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের এপ্রিলে ফ্রান্সের বেশ কিছু অধিকার রক্ষা সংগঠন আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল। তাদের দাবি ছিল, ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা এবং সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ না থাকা অভিবাসীদের অধিকারকে অস্বাভাবিকভাবে সীমিত করছে। এমনকি ফ্রান্সের ‘ডিফেন্ডার অফ রাইটস’ সংস্থাও মনে করে, ডিজিটাল প্রযুক্তির পাশাপাশি সশরীরে যোগাযোগ বা ফোনের মাধ্যমে মানবিক সহায়তার বিকল্প ব্যবস্থা রাখা জরুরি। আদালতের এই নতুন নির্দেশনার ফলে এখন থেকে প্রেফেকচুরগুলোতে সরাসরি সহায়তা পাওয়ার পথ আরও প্রশস্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: ইনফো মাইগ্রেন্টস
