শুক্রবার, ৮ই মে, ২০২৬   |   ২৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাজ্যের ভেঙে পড়া অভিবাসন ব্যবস্থা সংস্কারে এক নতুন ও বৈপ্লবিক পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। তিনি জানিয়েছেন, ইংলিশ চ্যানেলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং মানবপাচারকারী চক্রের ব্যবসা চিরতরে বন্ধ করতে সরকার বদ্ধপরিকর। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, যদি অবৈধ অনুপ্রবেশ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়, তবে বৈধ ও নিরাপদ পথে শরণার্থী আশ্রয়ের পরিধি আরও বাড়ানো হবে। এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি তিনটি নতুন ‘সেফ রুট’ বা নিরাপদ পথ চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন, যার মাধ্যমে মেধাবী শিক্ষার্থী, দক্ষ কর্মী এবং কমিউনিটি স্পনসরশিপের আওতায় শরণার্থীরা ব্রিটেনে আসার সুযোগ পাবেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রস্তাবিত তিনটি পথের প্রথমটি হলো—বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বাস্তুচ্যুত মেধাবী শিক্ষার্থীদের ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেওয়া। দ্বিতীয়ত, দক্ষ শরণার্থীদের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে ব্রিটেনে নিয়ে আসা এবং তৃতীয়ত, বিভিন্ন সংস্থা বা কমিউনিটি গ্রুপের মাধ্যমে শরণার্থীদের দায়-দায়িত্ব গ্রহণের ব্যবস্থা করা। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যে আসার আগেই তাঁদের শরণার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেতে হবে এবং প্রতি বছর কতজন আসতে পারবেন তার একটি সুনির্দিষ্ট সীমা বা ‘ক্যাপ’ নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মনে করেন, এই সুশৃঙ্খল ব্যবস্থার ফলে প্রকৃত অভাবী মানুষগুলোই আশ্রয়ের সুযোগ পাবেন।

তবে সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি বসবাসের নিয়মে বড় ধরনের কড়াকড়ি আরোপের প্রস্তাবও দিয়েছেন শাবানা মাহমুদ। নতুন পরিকল্পনায় সাধারণ কর্মীদের স্থায়ী বসবাসের (ILR) সময়সীমা ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর এবং শরণার্থীদের জন্য তা ২০ বছর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া পরিবার নিয়ে আসার ক্ষেত্রে শরণার্থীদের পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতা থাকার শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারের ভেতরেই লেবার পার্টির অনেক এমপি এই কঠোর নিয়মকে ‘আন-ব্রিটিশ’ বলে সমালোচনা করলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর অবস্থানে অনড়। তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে, নিয়ম মেনে চলাই একটি শক্তিশালী ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন ব্যবস্থার মূল ভিত্তি, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের স্বার্থ রক্ষা করবে।

তথ্যসূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version