মঙ্গলবার, ১৯ই মে, ২০২৬   |   ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফ্রান্স সরকার দেশটির অভিবাসন ও রেসিডেন্স পারমিট ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রশাসনিক সংস্কারের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। ২০২৬ সালের শুরু থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো দীর্ঘসূত্রতা কমানো, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিদেশি নাগরিকদের আইনগত অধিকার আরও সুরক্ষিত করা। ফরাসি দৈনিক ‘লো ফিগারো’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ ন্যুনেজ জানান, বিপুল সংখ্যক জমে থাকা আবেদনের কারণে রেসিডেন্স পারমিট নবায়নে অস্বাভাবিক বিলম্ব হচ্ছে, যার ফলে অনেক অভিবাসী বৈধ অবস্থান হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছেন। এই সংকট কাটাতে রেসিডেন্স পারমিট নবায়নের গড় সময় ১১৭ দিন থেকে কমিয়ে ৫৫ দিনে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

বর্তমানে ফ্রান্সে প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই বিশাল জট কমাতে দেশজুড়ে প্রিফেকচারগুলোতে ৫০০ জন অস্থায়ী কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে, যা প্রশাসনিক জনবল প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি করবে। এছাড়া জমে থাকা আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ২ মিলিয়ন ইউরো অতিরিক্ত বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে দেশটিতে মোট ৯ লাখ ৫৫ হাজার নবায়ন সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে ২ লাখ ৫ হাজার অর্থনৈতিক এবং ৩ লাখ ৬৬ হাজার পারিবারিক ক্যাটাগরির।

আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করতে নতুন পরিকল্পনায় বেশ কিছু বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে—ঠিকানা পরিবর্তন প্রক্রিয়া সহজীকরণ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা ছোট করা, ‘রেসিপিসে’ বা অস্থায়ী সনদের মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৃদ্ধি এবং বায়োমেট্রিক ডেটা সংরক্ষণ ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করা। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি বা চ্যাটবট ব্যবহারের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে, ২০২১ সালে চালু হওয়া বিদেশিদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘এনইএফ’ (ANEF)-এর কারিগরি ত্রুটি দূর করতে এটিকে সম্পূর্ণ পুনর্গঠন করা হবে। এই প্ল্যাটফর্মের ত্রুটির কারণে হাজার হাজার মানুষ সময়মতো নবায়ন করতে না পেরে অনিচ্ছাকৃতভাবে অবৈধ হয়ে পড়ছিলেন, যা নিয়ে গত ১০ এপ্রিল ফ্রান্সের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক আদালত ‘কঁসেই দেতা’ (Conseil d’État)-এ ১০টি মানবাধিকার সংগঠন অধিকার সুরক্ষার দাবিতে একটি মামলাও দায়ের করে।

নতুন এই সংস্কার পরিকল্পনায় জালিয়াতির ঝুঁকি অনুযায়ী ফাইল যাচাইয়ের মাত্রা নির্ধারণ করা হবে এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তবে সব শর্ত পূরণ সাপেক্ষে দীর্ঘমেয়াদি রেসিডেন্স পারমিট পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষে ফ্রান্সে প্রায় ৪৫ লাখ বিদেশি নাগরিক বৈধ রেসিডেন্স পারমিট নিয়ে বসবাস করছেন, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮.১ শতাংশ। নতুন এই রোডম্যাপ একদিকে যেমন প্রশাসনিক জট কমাবে, অন্যদিকে অভিবাসীদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: দেশ রূপান্তর 

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version