সোমবার, ৩১শে আগস্ট, ২০২৬   |   ১৬ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফ্রান্সে অভিবাসন নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানাঁ। তিনি দেশটিতে বৈধ উপায়ে অভিবাসন বা বিদেশী নাগরিক আসা সাময়িকভাবে তিন বছরের জন্য স্থগিত রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

ফরাসি গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিচারমন্ত্রী দারমানাঁ বলেন, ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ও অভিবাসন ব্যবস্থা বর্তমানে বেশ চাপের মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতেই বৈধ অভিবাসনে সাময়িক বিরতি বা স্থগিতাদেশ প্রয়োজন হতে পারে। ফরাসি গণমাধ্যমগুলো এই বিষয়টিকে বেশ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করেছে।

বিচারমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই প্রস্তাব যদি সত্যি সত্যি পাস হয়, তবে ফ্রান্সে কাজের ভিসা এবং পরিবারকে ফ্রান্সে নিয়ে আসার (পারিবারিক পুনর্মিলন) মতো নিয়মিত অভিবাসনের পথগুলো পুরোপুরি বন্ধ বা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি বিপদে ও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন পরিবার নিয়ে ফ্রান্সে আসার অপেক্ষায় থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

বাংলাদেশি প্রবাসীদের মনে ক্ষোভ ও দুশ্চিন্তা:

ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মানুষজন জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে ভিসা এবং আবাসন কার্ড বা কাগজ পাওয়ার প্রক্রিয়া এমনিতেই অনেক কঠিন করা হয়েছে। কার্ড নবায়ন, কাগজপত্র যাচাই এবং ইন্টারভিউয়ের জন্য আগের চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগছে।

প্রবাসীদের জন্য স্বস্তির বিষয় হলো, এই মুহূর্তে এটি কোনো আইন নয়, বরং একটি রাজনৈতিক প্রস্তাব মাত্র। এটি বাস্তবায়ন করতে হলে ফরাসি পার্লামেন্টে অনেক আলোচনা, রাজনৈতিক দলের সমর্থন এবং আইনি প্রক্রিয়া পার হতে হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক মাসে এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চললেও ২০২৬ সালে বড় কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে ফ্রান্সের রাজনীতিতে এই অভিবাসন ইস্যুটি আরও বেশি উত্তপ্ত হয়ে উঠবে।

প্রস্তাবটি এখনো পাস না হলেও, ফ্রান্সে থাকা প্রবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ দিন দিন বেড়েই চলেছে।

তথ্যসূত্র: যুগান্তর 

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version