প্রস্তাবিত আইনের অধীনে বিক্ষোভ চলাকালে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য বিক্ষোভকারীদের সর্বোচ্চ ১০ হাজার ইউরো পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করা হতে পারে। ফ্রান্সে বিক্ষোভ চলাকালে যেকোনো ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক দায় সরাসরি বিক্ষোভকারীদের ওপর চাপানোর বিধান রেখে বুধবার দেশটির সিনেটে একটি বিল অনুমোদন করা হয়েছে; তবে এটি কার্যকর হতে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতেও (পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ) পাস হতে হবে।
সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা ডানপন্থি ও মধ্যপন্থি জোটের সমর্থনে সিনেটে ২২৯-১০৫ ভোটে বিলটির একটি বর্ধিত রূপ পাস হয়। আইনটি এখন বিতর্ক ও চূড়ান্ত ভোটের জন্য রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে পাঠানো হচ্ছে।
গত মে মাসে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে আর্সেনালকে পরাজিত করে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) জয়ী হওয়ার পর ছড়িয়ে পড়া দাঙ্গার পরিপ্রেক্ষিতে এই বিলটি প্রথম উত্থাপন করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে গত ১৭ অক্টোবর বৈষম্য ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে হওয়া বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিলে এবং হাজার হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত ও লুটপাটের শিকার হলে বিলটি নতুন করে বিশেষ গুরুত্ব পায়।
পার্লামেন্টে বক্তব্য দেওয়ার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ ১৭ অক্টোবরের বিশৃঙ্খলা ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ‘জরুরি প্রয়োজনীয়তার’ ওপর জোর দেন।
তিনি বলেন, ‘মুষ্টিমেয় কিছু ভাঙচুরকারীর অপকর্মের দায়ভার আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিকদের বহন করতে আমরা আর দিতে পারি না।’সমালোচকেরা সতর্ক করে বলছেন, কোনো ব্যক্তি নিজে সরাসরি ক্ষয়ক্ষতি না ঘটালেও ভাঙচুর চালানোর উদ্দেশ্যে গঠিত কোনো দলে জেনেশুনে অংশ নেওয়ার প্রমাণ মিললে তাঁকেও আর্থিকভাবে দায়ী করা হতে পারে।
এছাড়া ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায়ের জন্য সরকারি কল্যাণ ভাতা (ওয়েলফেয়ার বেনিফিট) ও আবাসন সহায়তা জব্দ করার সুযোগ রাখা হয়েছে এই বিলে; যার ফলে বামপন্থি আইনপ্রণেতা ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে এটি।
মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সতর্ক করে বলেছে, এই ব্যবস্থাটি ‘ইতিমধ্যে প্রান্তিক পর্যায়ে থাকা পরিবারগুলোকে আরও চরম দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিতে পারে।’
সহিংস বিক্ষোভের প্রতিক্রিয়ায় কোনো ইউরোপীয় সরকারের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে ইতালিতে নতুন এক নিরাপত্তা ডিক্রির মাধ্যমে সহিংস বিক্ষোভের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান চালু করা হয়; যার মধ্যে সহিংস বিক্ষোভে জড়িত দল সংগঠিত করার দায়ে চার থেকে ১২ বছরের কারাদণ্ডের বিধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
