বৃহস্পতিবার, ২৯ই অক্টোবর, ২০২৬   |   ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সার্বিয়ার রাজনীতিতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশটির নতুন নেতৃত্ব ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্যপদ অর্জনের পথে কতটা এগোতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেই ইইউর সদস্য হতে চায় সার্বিয়া। তবে সদস্যপদ পাওয়ার পথে দেশটিকে গণতন্ত্র, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করাসহ নানা সংস্কার করতে হবে।

গত রোববার (২৫ অক্টোবর) সার্বিয়ায় আগাম পার্লামেন্ট নির্বাচনের পর দেশটির নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ জানিয়েছে ইইউ। সদস্যপদ অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে সহায়তার আশ্বাসও দিয়েছে সংস্থাটি।

ইইউর পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তাবিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি কাজা কালাস এবং সম্প্রসারণবিষয়ক কমিশনার মার্তা কোস এক যৌথ বিবৃতিতে এ অবস্থান জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, নির্বাচনে ব্যাপক অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সার্বিয়ার জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে নিজেদের মত জানিয়েছেন। নতুন সরকারও পরিবর্তন আনার জন্য জনগণের কাছ থেকে জোরালো সমর্থন পেয়েছে।

তবে সার্বিয়ার নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইইউ। সংস্থাটির মতে, রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহার, ক্ষমতাসীন দলের পক্ষে সংবাদমাধ্যমের পক্ষপাত এবং ভোটার, প্রার্থী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের ওপর চাপ প্রয়োগ নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

এ কারণে সার্বিয়ার নির্বাচনি ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছে ইইউ।

সার্বিয়ায় ছাত্র আন্দোলনের সূত্রপাত ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর। ওই দিন নোভি সাদ শহরের একটি রেলস্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হন। দুর্ঘটনার পর সরকারি অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির অভিযোগে দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার দায় নির্ধারণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবিও জোরালো হয়ে ওঠে।

পরে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া বিক্ষোভে শিক্ষক, চিকিৎসক, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেন। একপর্যায়ে দুর্নীতি ও কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে বড় প্রতিবাদে রূপ নেয় এ আন্দোলন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা এই গণআন্দোলন সার্বিয়ার রাজনীতিতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

রাজনৈতিক পরিবর্তনের এই পরিস্থিতি দেশটির পররাষ্ট্রনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। সার্বিয়া দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি ইইউর সদস্যপদ অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে আসছে।

তবে ছাত্র আন্দোলনের সাফল্য মানেই মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা নয়। রাশিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সার্বিয়ার সম্পর্ক কোন দিকে এগোবে, তা নির্ভর করবে নতুন নেতৃত্বের নীতি ও পদক্ষেপের ওপর।

ইইউর সদস্যপদ পেতে সার্বিয়াকে দুর্নীতি দমন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মতো ক্ষেত্রে অগ্রগতি দেখাতে হবে।

এখন দেখার বিষয়, ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক পরিবর্তন সার্বিয়াকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ অর্জনের পথে কতটা এগিয়ে নিতে পারে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version