ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলের একটি স্কুলে গুলির ঘটনায় প্রধান শিক্ষক ও এক শিক্ষক আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১৪ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। পরে তার বাবা-মাকেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার সকালে মার্সেই শহরের কাছে ওবান এলাকার লাকানাল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানান, ওই শিক্ষার্থী গিটারের বাক্সে শটগান নিয়ে স্কুলে প্রবেশ করে। এরপর সে গুলি চালায়। পরে স্কুলের এক কর্মী তাকে নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ওবানের মেয়র জ্যঁ-পিয়ের স্কুইলারি জানান, এ ঘটনায় কোনো শিক্ষার্থী আহত হয়নি। আহত দুই শিক্ষকের আঘাত প্রাণঘাতী নয়। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫৩ বছর বয়সী প্রধান শিক্ষক পায়ে ও পিঠের নিচের অংশে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। অন্যদিকে, ৩৭ বছর বয়সী এক শিক্ষকের উরুতে গুলি লেগেছে। এ ছাড়া তৃতীয় এক ব্যক্তি সামান্য আহত হয়েছেন।
ঘটনার পর মার্সেইয়ের প্রসিকিউটর কার্যালয় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে।
সন্দেহভাজন শিক্ষার্থীর পারিবারিক বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে অস্ত্র পাওয়ার পর তার বাবাকেও হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ নিশ্চিত করেন, ওই শিক্ষার্থীর বাবা-মা দুজনকেই আটক করা হয়েছে।
মার্সেই শহর থেকে প্রায় ১১ মাইল পূর্বে অবস্থিত ওবান একটি ছোট শহর। বুশ-দ্যু-রোন বিভাগের পরিষদপ্রধান মার্তিন ভাসাল সাংবাদিকদের জানান, অস্ত্র নিয়ে স্কুলে প্রবেশের পর সেখানে একাধিক গুলির শব্দ শোনা যায়।
এদিকে, ফ্রান্সে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধার উন্নতির দাবিতে চলমান শিক্ষার্থী বিক্ষোভের সঙ্গে এ ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছে না পুলিশ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম পুলিশের সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।
ঘটনার উদ্দেশ্য, অস্ত্র কীভাবে ওই শিক্ষার্থীর হাতে পৌঁছাল এবং হামলার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
