ফ্রান্সজুড়ে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনের জন্য ‘লাগামহীন অভিবাসন’ ও ইসলামকে দায়ী করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে নিজের দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ বা ব্যাখ্যা দেননি তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘ফ্রান্সে যা ঘটছে, তা মূলত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া লাগামহীন অভিবাসন ছাড়া আর কিছুই নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটি স্কুলসংক্রান্ত কোনো বিষয় নয়; বরং একসময়ের মহান একটি দেশকে ইসলামের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রচেষ্টা।’
তবে ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের সঙ্গে ধর্মীয় বা পরিচয়ভিত্তিক কোনো দাবির সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
উন্নত শিক্ষার পরিবেশ, পর্যাপ্ত শিক্ষক ও কর্মী নিয়োগ এবং জরাজীর্ণ স্কুল ভবন সংস্কারের দাবিতে গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে আন্দোলন শুরু করেন ফরাসি শিক্ষার্থীরা। দেশজুড়ে শত শত হাইস্কুলের প্রবেশপথ অবরুদ্ধ করে শুরু হওয়া এ আন্দোলন একপর্যায়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষে রূপ নেয়। গত মঙ্গলবারও প্রায় আড়াই লাখ মানুষ দেশজুড়ে বিক্ষোভে অংশ নেন।
৫ অক্টোবর প্যারিসের তুরগো উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা। অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষক সংকট ও জরাজীর্ণ স্কুল ভবনের প্রতিবাদে দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভের অংশ হিসেবে তারা সেখানে সমবেত হন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বছরের পর বছর বিনিয়োগের ঘাটতির কারণেই এসব সংকট তৈরি হয়েছে। ছবি: রয়টার্স
সামনেই যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। এমন সময়ে অভিবাসনবিরোধী বক্তব্য জোরালো করতে ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা মাগা শিবিরের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ফ্রান্সের অস্থিরতার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও অন্যান্য সংকটে রিপাবলিকানরা চাপে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পশ্চিমা সংস্কৃতির অবক্ষয়ের অভিযোগ তুলে অভিবাসন ইস্যুকে সামনে আনার কৌশল নিয়েছেন ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসন।
ট্রাম্পের মিত্র গ্লেন বেক সোমবার এক্সে লেখেন, ‘ফ্রান্সের দাঙ্গা পশ্চিমা বিশ্বের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা।’ তাঁর দাবি, ফ্রান্সে যা ঘটছে, তা পশ্চিমা বিশ্বকে ভেঙে ফেলার লক্ষ্যে কাজ করা আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক গোষ্ঠীগুলোর নেটওয়ার্কের অংশ।
ট্রাম্পের মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ফ্রান্স। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো মঙ্গলবার পার্লামেন্টারি কমিটিকে বলেন, ফরাসি কূটনৈতিক মিশনগুলো বিশ্বজুড়ে দেশের প্রকৃত অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, ‘যাতে অন্যদের বয়ানের কাছে আমাদের আত্মসমর্পণ করতে না হয়; বরং নিজেদের বয়ান আমরা নিজেরাই প্রচার করতে পারি।’
বারো আরও বলেন, ট্রাম্পের মন্তব্যের সঙ্গে ইরানের বক্তব্যেরও মিল রয়েছে। এর আগে স্কুলশিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে ফ্রান্সের ‘সহিংস প্রতিক্রিয়ার’ অভিযোগ তুলে দেশটির রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছিল ইরান।
পার্লামেন্টারি কমিটিতে বারো বলেন, ‘আপনারা ইরানিদের বক্তব্য পাবেন, সম্ভবত কিছু ইসরায়েলির বক্তব্যও পাবেন, হয়তো কিছু আমেরিকানের বক্তব্যও পাবেন।’
ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য, এসব বক্তব্যের বিপরীতে ফরাসি কূটনৈতিক মিশনগুলো দেশের অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা করছে।
