ফরাসি সরকার ২০২৬ সাল থেকে তাদের দূরবর্তী ও সমুদ্রপার্বর্তী অঞ্চলগুলোতে (ফরাসি উপনিবেশ) প্রবেশের জন্য বিশেষ ভিসা মওকুফের নতুন তালিকা ও নিয়মের রূপরেখা প্রকাশ করেছে। ইইউ-এর মূল ভূখণ্ডের বাইরে অবস্থিত এই বিশেষ অঞ্চলগুলো সরাসরি শেনজেন এলাকার অন্তর্ভুক্ত না থাকায় এগুলোতে যাতায়াতের জন্য পৃথক নিয়মের প্রয়োজন হয়। ফরাসি সরকারের নতুন নিয়ম অনুযায়ী প্রধানত তিনটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে এই ছাড় দেওয়া হবে—ভ্রমণকারীর জাতীয়তা, বৈধ বসবাসের অনুমতিপত্র এবং দীর্ঘমেয়াদী ফরাসি বা শেনজেন ভিসা থাকা।
জাতীয়তার ভিত্তিতে প্রথমত ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (EU) সকল দেশ, ইউরোপীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের (EEA) রাষ্ট্রসমূহ এবং সুইজারল্যান্ডের নাগরিকেরা যেকোনো ফরাসি উপনিবেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা ছাড়াই প্রবেশের সুযোগ পাবেন। এর বাইরে বিশ্বের মাত্র ১৩টি নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে, তবে শর্ত হলো তাদের পাসপোর্টে ফরাসি কনস্যুলার কর্তৃক ইস্যুকৃত কমপক্ষে ৬ মাস থেকে ৫ বছর মেয়াদী একটি বৈধ ‘মাল্টি-এন্ট্রি’ (বহুবার প্রবেশের উপযোগী) ভিসা থাকতে হবে। এই বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত ১৩টি দেশ হলো—ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, রাশিয়া, বেলারুশ, বাহরাইন, ইন্দোনেশিয়া, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, থাইল্যান্ড এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে দুর্ভাগ্যবশত এই তালিকায় প্রতিবেশী ভারতের নাম থাকলেও বাংলাদেশের নাম নেই।
আবার শেনজেনভুক্ত কোনো দেশের প্রিফেকচার বা সরকারের ইস্যু করা বৈধ রেসিডেন্স পারমিট বা বসবাসের অনুমতিপত্রের ধারক হন, তবে তিনিও অতিরিক্ত ভিসা ছাড়াই ফরাসি উপনিবেশগুলোতে প্রবেশ করতে পারবেন। এছাড়া কূটনৈতিক বা কনস্যুলার মিশনে কর্মরত ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ কার্ডধারী কর্মকর্তা এবং শেনজেনভুক্ত কোনো দেশ থেকে দীর্ঘমেয়াদী ভিসা পাওয়া ব্যক্তিরাও সরাসরি এই ভিসা মওকুফ সুবিধার আওতায় থাকবেন। তবে ফরাসি কর্তৃপক্ষ বিশেষভাবে মনে করিয়ে দিয়েছে যে, এই শর্তগুলো পূরণ করলেই প্রত্যেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রবেশাধিকার পাবেন না; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে ভ্রমণকারী নির্দিষ্ট কোন অঞ্চলটিতে যাচ্ছেন তার ওপর, কারণ প্রতিটি অঞ্চল তাদের নিজস্ব নিয়মে পরিচালিত হয়।
তথ্যসূত্র: লেজিট ডট এনজি
