বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬   |   ১লা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অভিবাসন নীতিতে আরও একটি বড় ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করল স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশ সুইডেন। দেশটিতে বসবাসরত কোনো অভিবাসী “সৎ জীবনযাপন” করছেন না বলে কর্তৃপক্ষ মনে করলে, তাকে সরাসরি দেশ থেকে ‘ডিপোর্ট’ বা বহিষ্কার করার অনুমতি দিয়ে এক বিতর্কিত আইন কার্যকর করা হয়েছে।

গত রবিবার (১৩ জুলাই, ২০২৬) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশজুড়ে কার্যকর হয়েছে এই নতুন নিয়ম। ২০২২ সালের অক্টোবরে ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশটির প্রধানমন্ত্রী উল্ফ ক্রিস্টারসনের নেতৃত্বাধীন সরকার অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে একের পর এক কঠোর আইন প্রণয়ন করে আসছে। এই কার্যক্রমে তাদের সমর্থন দিচ্ছে অভিবাসনবিরোধী রাজনৈতিক দল সুইডেন ডেমোক্র্যাটস।

সুইডিশ সরকারের নতুন আইন অনুযায়ী, ‘জীবনযাপনে অনিয়ম’ বা অসৎ আচরণ হিসেবে শুধু ফৌজদারি অপরাধ করাকেই বোঝানো হবে না। এর আওতায় নিম্নলিখিত বিষয়গুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে:

– সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা বা সরকারি অর্থ – জালিয়াতি করা।

– ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণ পরিশোধ না করা।

– মাদকাসক্তির কারণে জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা।

– উগ্রবাদ বা সন্ত্রাসবাদের পক্ষে কোনো প্রকার প্রচারণা চালানো।

– সুইডেনের জাতীয় নিরাপত্তা বা সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে—এমন যেকোনো কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকা।

-সুইডেনের অভিবাসনমন্ত্রী ইয়োহান ফরসেল এই বিষয়ে বলেন, ‘‘আইন ও নিয়ম মেনে চলা যেমন স্বাভাবিক বিষয়, তেমনি দায়িত্বশীলভাবে জীবনযাপন করা এবং আমাদের দেশের ক্ষতি না করাও সবার দায়িত্ব হওয়া উচিত৷’’

তবে সুইডেন ডেমোক্র্যাটসের অভিবাসনবিষয়ক মুখপাত্র লুডভিগ আসপ্লিং স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো ব্যক্তি কেবল কী মত প্রকাশ করছেন, সেটিকে সরাসরি অসৎ আচরণের প্রমাণ হিসেবে ধরা হবে না। তবে সহিংস উগ্রপন্থার সঙ্গে সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া গেলে, সেটি অবশ্যই নৈতিক আচরণ মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

আইনটির প্রস্তাব প্রকাশের পর থেকেই স্টকহোমভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘সিভিল রাইটস ডিফেন্ডারস’ সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহল এর তীব্র সমালোচনা করে আসছে। মানবাধিকারকর্মীদের মতে, এই আইনের ফলে এমন একটি পক্ষপাতমূলক ব্যবস্থা তৈরি হবে যেখানে সাধারণ নাগরিক ও অভিবাসীদের জন্য আইনের দৃষ্টিতে সমান অধিকার ক্ষুণ্ণ হবে। এটি স্বাধীন মত প্রকাশের ওপরও পরোক্ষ আঘাত হানতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

নতুন আইনের আরেকটি কঠোর দিক হলো—সুইডেনে শরণার্থী মর্যাদা অথবা সাবসিডিয়ারি প্রোটেকশন পাওয়া ব্যক্তিরা আর স্থায়ী বসবাসের অনুমতির জন্য সরাসরি আবেদন করতে পারবেন না। একই নিয়ম জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর (UNHCR)-এর পুনর্বাসন কর্মসূচির মাধ্যমে সুইডেনে আসা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। এই নিয়মটিও গত ১২ জুলাই থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: ইনফো মাইগ্রেন্টস 

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version