রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬   |   ২৬শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েলের শীর্ষ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘এলবিট সিস্টেমস’-এর জন্য পাঠানো সামরিক যন্ত্রাংশের একটি চালান বিমানে তুলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন প্যারিস বিমানবন্দরের ফরাসি কর্মীরা। ফিলিস্তিনপন্থি বিভিন্ন সংগঠন ও ট্রেড ইউনিয়নগুলোর তৎপরতার মুখে শনিবার প্যারিস থেকে তেল আবিবগামী ‘এল আল’ (El Al) এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে এই চালান তোলার কথা থাকলেও তা আটকে দেন কর্মীরা।

প্যারিসের শার্ল দ্য গল বিমানবন্দরে কার্গো হ্যান্ডলিং পরিচালনাকারী একটি প্রতিষ্ঠানের ওয়ার্কার্স কমিটির সিদ্ধান্তের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। চালানটি শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলে পাঠানো নিশ্চিত করতে এবং অচলাবস্থা নিরসনে দেশটির নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তৎপরতা চালাচ্ছেন।
সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউ আরব’-এর বরাতে জানা গেছে, এর আগে গত বৃহস্পতিবার সকালে ফরাসি ট্রেড ইউনিয়ন ও ফিলিস্তিনপন্থি অধিকারকর্মীরা চালানটি ‘এয়ার ফ্রান্স’-এর একটি ফ্লাইটে ওঠা প্রতিহত করেছিলেন।

অধিকারকর্মী সংগঠন ‘উরজঁস প্যালেস্টাইন’-এর এক প্রতিনিধি জানান, বিমানবন্দর কর্মী ও মানবাধিকারকর্মীদের হস্তক্ষেপে এলবিট সিস্টেমস ল্যান্ডের জন্য নির্ধারিত ওই চালানটি ফ্রান্সে আটকে যায়। সংগঠনের দাবি, প্রকাশ্য বিবৃতিতে এয়ার ফ্রান্স এই চালান বুকিংয়ের তথ্য অস্বীকার করলেও মূলত কর্মীদের আপত্তির মুখেই তারা পরিবহন চুক্তি বাতিল করতে বাধ্য হয়। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তাঁদের কাছে মূল রিজার্ভেশন এবং নতুন ফ্লাইটের এয়ার ওয়েবিল সংক্রান্ত প্রমাণ রয়েছে।

ট্রেড ইউনিয়নগুলোর এক বিবৃতিতে বলা হয়, ফরাসি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘মিজনো’ (Mijno) এবং আন্তর্জাতিক ফ্রেইট কোম্পানি ‘ডিএসভি’ (DSV) পরবর্তীতে চালানটি শনিবার শার্ল দ্য গল বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়ার নির্ধারিত এল আল ফ্লাইটে নতুন করে বুকিং দিয়েছিল। তবে ইউনিয়নগুলো ফরাসি কর্তৃপক্ষ ও বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনাকে এই চালান দেশ ছাড়তে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চালানটিতে সামরিক যানে ব্যবহৃত বিশেষ মেকানিক্যাল বা যন্ত্রাংশ রয়েছে, যা ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এলবিট সিস্টেমসের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এলবিট সিস্টেমস ল্যান্ডের কাছে পাঠানোর কথা ছিল।

এদিকে এয়ার ফ্রান্স জানিয়েছে যে তারা তাদের ফ্লাইটে অস্ত্র বা গোলাবারুদ ইসরায়েলে পরিবহন করে না এবং এই ধরনের কোনো কার্গো তাদের বিমানে বুক করা হয়নি।

অন্যদিকে ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার তাদের সামরিক রপ্তানি নীতির পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেছে, ইসরায়েলের উদ্দেশ্যে পাঠানো যন্ত্রাংশ কেবল তখনই রপ্তানি করা যাবে যদি তা সুনির্দিষ্টভাবে প্রতিরক্ষামূলক কাজে ব্যবহৃত হয় অথবা এমন কোনো সরঞ্জামে যুক্ত থাকে যা পরবর্তীতে তৃতীয় কোনো দেশে রপ্তানি করা হবে। মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, ফ্রান্স তাদের সমস্ত আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা পুরোপুরি মেনে চলে এবং দেশটির সামরিক রপ্তানি কঠোর নজরদারি ও সুরক্ষার অধীনে পরিচালিত হয়।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version