জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে নতুন কনস্যুলেট জেনারেল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও ব্যবসায়িক কেন্দ্রে বাংলাদেশের কূটনৈতিক উপস্থিতি জোরদার এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গত ৩১ আগস্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতি ও সংগঠন শাখার এক চিঠিতে ফ্রাঙ্কফুর্টে কনস্যুলেট স্থাপনের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। নতুন কনস্যুলেটের জন্য প্রয়োজনীয় পদ, যানবাহন ও অফিস সরঞ্জাম সাংগঠনিক কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় অনুমোদনও পাওয়া গেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, ফ্রাঙ্কফুর্ট বাংলাদেশের কূটনৈতিক, বাণিজ্যিক ও কনস্যুলার স্বার্থের দিক থেকে বিশেষ কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে। বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় যথাযথ প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ, দেশের ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখা এবং কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যেই সেখানে কনস্যুলেট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জার্মানি বাংলাদেশের অন্যতম বড় রপ্তানি বাজার। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৯ বিলিয়ন ইউরো।
জলবায়ু, জ্বালানি, সুশাসন, অভিবাসন, দক্ষতা উন্নয়ন ও টেকসই সরবরাহ ব্যবস্থাও জার্মানির সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে জার্মানির রাজধানী বার্লিনে বাংলাদেশের একটি মিশন রয়েছে। তবে ফ্রাঙ্কফুর্ট ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও ব্যবসায়িক কেন্দ্র হওয়ায় সেখানে আলাদা কনস্যুলেট স্থাপনের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
একই সঙ্গে ইউরোপে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি, বিনিয়োগ, শ্রম ও অভিবাসন এবং জার্মানিতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের কনস্যুলার সেবা দেওয়ার বিষয়গুলোও নতুন কনস্যুলেটের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফ্রাঙ্কফুর্টে কনস্যুলেট চালু হলে জার্মানির সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক কেন্দ্রটির সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ তৈরি হবে।
