শনিবার, ২৩শে মে, ২০২৬   |   ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জার্মানিতে বসবাসরত অভিবাসী কর্মীরা স্থানীয় নাগরিকদের তুলনায় গড়পড়তায় উল্লেখযোগ্য হারে কম আয় করছেন, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন অভিবাসী নারীরা। বিখ্যাত ‘নেচার’ জার্নালে প্রকাশিত একটি বৈশ্বিক গবেষণার নতুন তথ্যে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, জার্মানিতে প্রথম প্রজন্মের বিদেশি কর্মীরা স্থানীয়দের চেয়ে প্রায় ২০ শতাংশ কম আয় করেন। তবে দ্বিতীয় প্রজন্মের অভিবাসীদের ক্ষেত্রে এই ব্যবধান কমে ৭.৭ শতাংশে দাঁড়ায়, যা স্থানীয় ভাষায় দক্ষতা অর্জন এবং দেশীয় শিক্ষা সম্পন্ন করার ইতিবাচক প্রভাবকে নির্দেশ করে। জার্মানির অভিবাসন সংবাদসংস্থা ‘মেডিয়েনডিয়েনস্ট ইন্টিগ্রেশন’ জানিয়েছে, এই অসাম্য প্রমাণ করে যে অনেক অভিবাসী এখনও শ্রমবাজারে সরাসরি বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, এই বেতন ব্যবধানের তিন-চতুর্থাংশ কারণ হলো অভিবাসীদের উচ্চ বেতনের চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ এবং পদোন্নতির (প্রোমোশন) সম্ভাবনা অনেক কম। বাকি এক-চতুর্থাংশ ব্যবধান আসে সরাসরি বৈষম্য থেকে, যেখানে কিছু প্রতিষ্ঠান একই পদে থাকা সত্ত্বেও স্থানীয়দের চেয়ে অভিবাসীদের কম বেতন দেয়। বিশেষ করে আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা অভিবাসীরা এই বৈষম্যের দ্বারা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হচ্ছেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, স্থানীয় জার্মান নারীরা যেখানে পূর্ণসময়ের চাকরিতে কর-পূর্ব গড়পড়তায় ৩,৯০০ ইউরো আয় করেন, সেখানে বিদেশি নারীরা ১,০০০ ইউরো কম অর্থাৎ মাত্র ২,৯০০ ইউরো আয় করেন। এমনকি কাজের ঘণ্টা হিসেবে অভিবাসী নারীদের আয় স্থানীয় নারীদের তুলনায় ৪১ শতাংশ এবং স্থানীয় পুরুষদের তুলনায় ৬৮ শতাংশ পর্যন্ত কম হতে পারে। বিশেষ করে পূর্ব ইউরোপ থেকে আসা এবং জার্মানিতে আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে আসা নারীদের ক্ষেত্রে এই আর্থিক অসাম্য প্রকট। এর একটি বড় কারণ হলো, গৃহস্থালির বিনা পারিশ্রমিকের কাজ সামলাতে গিয়ে এই নারীদের বড় অংশ পার্ট-টাইম বা খণ্ডকালীন চাকরি করতে বাধ্য হন।

জার্মানিতে অভিবাসী কর্মীরা মূলত পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং কেয়ারগিভার বা যত্নখাতের মতো কম বেতনের কাজে বেশি নিযুক্ত থাকেন। অনেক সময় উচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বিদেশি নারীরা এসব পদে কাজ করতে বাধ্য হন। এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো, বিদেশি ডিগ্রিগুলো জার্মানিতে সরাসরি স্থানীয় ডিগ্রির সমতুল্য হিসেবে স্বীকৃতি পায় না। এই ডিগ্রি রূপান্তরের জন্য বিভিন্ন পরীক্ষা ও প্রশিক্ষণে পাস করতে হয়, যা জার্মান ভাষায় ভালো দক্ষতা অর্জন ছাড়া প্রায় অসম্ভব। আর ঠিক এই কারণেই, ভাষা ও ডিগ্রির স্বীকৃতি পাওয়ার আগ পর্যন্ত অনেক বিদেশি কর্মী জার্মানিতে কম বেতনে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

তথ্যসূত্র: ইনফো মাইগ্রেন্টস বাংলা 

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version