মঙ্গলবার, ২৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬   |   ১৪ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য জার্মানিতে কাজের বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। দেশটিতে বর্তমানে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার পদ খালি রয়েছে। ফলে বিদেশে চাকরি এবং ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে বসবাসের কথা ভাবছেন—এমন পেশাজীবীদের জন্য জার্মানি সম্ভাবনাময় গন্তব্য হতে পারে।

সম্প্রতি দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত ‘গালফ নিউজ লেভেলআপ’ অনুষ্ঠানে এক আলোচনায় এসব তথ্য জানান ওয়াই-অ্যাক্সিসের পরিচালক ক্লিন্ট খান।

তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোতে বর্তমানে প্রায় ৩০ লাখ চাকরি খালি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার পদই জার্মানিতে। অর্থাৎ ইইউতে যত কর্মীর ঘাটতি রয়েছে, তার প্রায় এক-চতুর্থাংশ জার্মানিতে। এতে দেশটিতে দক্ষ কর্মীর চাহিদার মাত্রা স্পষ্ট হয়।

চাকরি খোঁজার সুযোগ ‘অপারচুনিটি কার্ডে’

দক্ষ কর্মীদের জার্মানিতে যাওয়ার একটি পথ হলো ‘অপারচুনিটি কার্ড’, জার্মান ভাষায় যাকে বলা হয় ‘চান্সেনকার্টে’। এটি মূলত চাকরি খোঁজার জন্য দেওয়া একটি আবাসন অনুমতি।

এর মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশের নাগরিকেরা জার্মানিতে গিয়ে সর্বোচ্চ ১২ মাস চাকরি খুঁজতে পারেন। এ ক্ষেত্রে দেশটিতে যাওয়ার আগে কোনো প্রতিষ্ঠানের চাকরির প্রস্তাব বা চুক্তি থাকা বাধ্যতামূলক নয়।

ক্লিন্ট খান বলেন, অপারচুনিটি কার্ড নিয়ে জার্মানিতে গিয়ে চাকরি খোঁজার পাশাপাশি শুরুতে খণ্ডকালীন কাজও করা যায়। পরে পূর্ণকালীন চাকরি পেলে এবং নিয়োগকর্তা প্রয়োজনীয় অনুমোদন দিতে রাজি হলে উপযুক্ত ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করা সম্ভব।

পড়াশোনা, নাকি দীর্ঘমেয়াদি বসবাস?

বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করা ব্যক্তিদের প্রথমেই ঠিক করা উচিত—তারা পড়াশোনার জন্য বিদেশে যেতে চান, নাকি দীর্ঘমেয়াদে সেখানে বসবাস করতে চান বলে মনে করেন ক্লিন্ট খান।

তিনি বলেন, প্রত্যেকের পরিস্থিতি ও লক্ষ্য আলাদা। কেউ যদি সত্যিই বিদেশে পড়াশোনা করতে চান, তাহলে সেটি ভালো বিকল্প হতে পারে। তবে শুধু ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাওয়ার আশায় বিদেশে পড়তে যাওয়ার ক্ষেত্রে পড়াশোনা শেষে কী ধরনের সুযোগ থাকবে, তা আগেই বিবেচনা করা দরকার।

কোনো দেশে পড়াশোনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের লক্ষ্য, বাজেট, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা যাচাই করার পরামর্শও দেন তিনি।

শুধু বিদেশ যাওয়ার জন্য পড়াশোনা নয়

বিদেশ যাওয়ার সহজ পথ হিসেবে শুধু পড়াশোনাকে বেছে নেওয়ার বিষয়েও সতর্ক করেন ক্লিন্ট খান।

তিনি বলেন, অনেকে দেশ ছাড়ার তুলনামূলক সহজ উপায় হিসেবে বিদেশে পড়াশোনাকে বেছে নেন। কিন্তু পড়াশোনা শেষ করার কয়েক বছর পর তাদের কী হবে, সে বিষয়ে আগে থেকে পরিকল্পনা করেন না। এটি বড় ভুল হতে পারে।

কেউ এমন একটি দেশও বেছে নিতে পারেন, যেখানে পড়াশোনা শেষ করার পর কাজ বা দীর্ঘমেয়াদে থাকার সুযোগ সীমিত। তাই বিদেশে পড়তে যাওয়ার আগে পড়াশোনা শেষে চাকরি, বসবাসের সুযোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ারের সম্ভাবনাও বিবেচনা করা উচিত।

দক্ষ কর্মীদের জন্য অস্ট্রেলিয়া-কানাডাতেও সুযোগ

যারা পড়াশোনার পরিবর্তে সরাসরি দক্ষ কর্মী হিসেবে বিদেশে যেতে চান, তাদের জন্যও বিভিন্ন দেশের অভিবাসন ব্যবস্থা রয়েছে।

ক্লিন্ট খান বলেন, জার্মানির পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া ও কানাডাতেও দক্ষ কর্মীদের জন্য নির্দিষ্ট অভিবাসন কর্মসূচি রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় স্কিলড মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম এবং কানাডায় ফেডারেল স্কিলড ওয়ার্কার প্রোগ্রামের মাধ্যমে যোগ্য পেশাজীবীরা চাকরি ও দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ খুঁজতে পারেন।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version