আগামী দুই বছরের মধ্যে রাশিয়া ইউরোপে সামরিক হামলা চালাতে পারে, এমন আশঙ্কার কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন জার্মান সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা। এই সতর্কবার্তার পর জার্মানি ও তার মিত্র দেশগুলোতে নিরাপত্তা প্রস্তুতি নতুন মাত্রা পেয়েছে। জার্মান সেনাবাহিনীর প্রধানের ভাষ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা ও রাশিয়ার সামরিক তৎপরতা বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, মস্কো শুধু ইউক্রেনেই সীমাবদ্ধ থাকতে নাও পারে। বরং ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা পরীক্ষা করার লক্ষ্যেও পদক্ষেপ নিতে পারে রাশিয়া।
জার্মান সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনে দীর্ঘ যুদ্ধ সত্ত্বেও রাশিয়া দ্রুত সামরিক পুনর্গঠন করছে, অস্ত্র উৎপাদন ও সেনা মোতায়েন বাড়ানো হচ্ছে এবং বাল্টিক অঞ্চল ও পূর্ব ইউরোপে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে জার্মান সেনাপ্রধান বলেন,
“আমাদের অবশ্যই ধরে নিতে হবে যে ২০২৬-২০২৭ সালের মধ্যে রাশিয়া ইউরোপীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি হয়ে উঠতে পারে।”
এই সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় জার্মানি ইতোমধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে, সামরিক বাজেট বৃদ্ধি, সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণ, অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত বাড়ানো, ন্যাটোর দ্রুত প্রতিক্রিয়া বাহিনীতে সক্রিয় ভূমিকা ও পূর্ব ইউরোপে ন্যাটো ঘাঁটিতে জার্মান সেনা মোতায়েন। বিশেষ করে লিথুয়ানিয়া ও পোল্যান্ডে জার্মান সেনাদের উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে, যা রাশিয়ার সীমান্তবর্তী অঞ্চল।
জার্মানির এই সতর্কবার্তা কেবল দেশটির একক মূল্যায়ন নয়, বরং এটি ন্যাটো জোটের সামগ্রিক উদ্বেগের প্রতিফলন। ন্যাটো কর্মকর্তারা বলছেন, রাশিয়া দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছে। এখন ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামো নতুন করে সাজানো প্রয়োজন এবং সদস্য দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ২ শতাংশে উন্নীত করা জরুরি। ইতোমধ্যে ফ্রান্স, পোল্যান্ড, ফিনল্যান্ড ও বাল্টিক দেশগুলোও নিজেদের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদার করেছে।
অন্যদিকে রাশিয়া বরাবরের মতোই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। মস্কোর দাবি, ন্যাটোই পূর্ব দিকে সম্প্রসারণের মাধ্যমে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে এবং ইউরোপের সামরিক প্রস্তুতি রাশিয়াকে অযথা শত্রু বানাচ্ছে। তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব কর্মকাণ্ডের ফারাক ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জার্মান সেনাপ্রধানের এই বক্তব্য তাৎক্ষণিক যুদ্ধের পূর্বাভাস নয়, বরং এটি একটি কৌশলগত সতর্কতা। এর লক্ষ্য, ইউরোপীয় দেশগুলোকে প্রস্তুত করা, প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় ঘাটতি দূর করা রাশিয়াকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া যে ইউরোপ দুর্বল নয়।এক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকের ভাষায়,
“যুদ্ধ ঠেকানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকা।”
ইউক্রেন যুদ্ধ ইউরোপের নিরাপত্তা ভাবনাকে আমূল বদলে দিয়েছে। জার্মানির এই সতর্কবার্তা ইঙ্গিত দিচ্ছে, আগামী বছরগুলোতে ইউরোপকে হয়তো শান্তি ধরে রাখতে আরও বেশি প্রস্তুত ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
