বুধবার, ১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬   |   ২৯ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

২০২৫ সালে অবৈধ অবস্থায় থাকা ৭৫০ জনেরও বেশি অভিবাসী পর্তুগাল থেকে নিজ দেশে স্বেচ্ছায় ফিরে গেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় চার গুণ বৃদ্ধি। এমন ফলাফল শুধুই উপাত্ত নয়, এটি একটি নীতিগত পরিবর্তনের প্রতিফল, যেখানে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির বদলে সহজ, মানবিক ও সম্মানজনক প্রত্যাবর্তন নীতিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিন গুণের বেশি বৃদ্ধির পরিসংখ্যান

পর্তুগালের পাবলিক সিকিউরিটি পুলিশ (পিএসপি)-র জানানো মতে, ২০২৫ সালে স্বেচ্ছা প্রত্যাবর্তন–এ ৭৫৮ জন অভিবাসীর সংখ্যা হয়েছে। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ১৯৮। অর্থাৎ এক বছরে ২৮৩% বৃদ্ধি। এই তথ্য শুধুই সংখ্যা নয়, এটি দেখাচ্ছে মানুষের জীবন, সিদ্ধান্ত ও ভবিষ্যৎকে কেন্দ্র করে একটি নতুন নীতি কার্যকর হচ্ছে।

প্রত্যাবর্তন: শাস্তির পরিবর্তে সহায়তা

আগের দিনের নীতিতে অভিবাসীরা প্রায়শই ভয় ও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হতেন। অনেক সময় বহিষ্কার বা জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির ভয় তাদের মানসিক চাপ বাড়াতো। কিন্তু বর্তমানে ‘পিএসপি’ সহযোগী ও মানবিক পদ্ধতিতে বিদেশিদের নিজের ইচ্ছায় ফিরে যাওয়ার সুযোগ দিচ্ছে। কাউন্সেলিং, কাগজপত্র প্রস্তুতি, টিকেট বা ভ্রমণের সহায়তা  সব কিছুই দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ দলে ফ্রন্টেক্স-এর সহায়তাও যুক্ত হয়েছে, ফলে ইউরোপীয় অভিবাসন কাঠামোর অংশ হিসেবে সহায়তা পাচ্ছেন অনেকে।

স্বেচ্ছা প্রত্যাবর্তন

স্বেচ্ছা প্রত্যাবর্তন বলতে বোঝায়, অভিবাসী নিজ ইচ্ছায়,  নিরাপদ ও সম্মানজনকভাবে সহায়তা পেয়ে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার প্রক্রিয়া। এতে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির ভয় কমে। পরিবারসহ নিরাপদে ফেরার সুযোগ তৈরি হয়। এছাড়া অভিবাসীরা আইনগত জটিলতা ও শাস্তির বিকল্প পথ পায়। এক ‘পিএসপি’ কর্মকর্তা বলেন, অনেকেই নিজেদের ভবিষ্যতের সুযোগগুলো বিবেচনা করে নিরাপদ, গৃহীত পদ্ধতিতে ফিরে যেতে চাইছে।

কারা বেশি যাচ্ছেন

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের বহিষ্কার মামলা-গুলোর অর্ধেকের বেশি
 ব্রাজিলীয় নাগরিকদের বিরুদ্ধে ছিল। এটি শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়; এটি পর্তুগাল ও ব্রাজিলের ইতিহাস, ভাষা, সাংস্কৃতিক সম্পর্ক ও অভিবাসন প্যাটার্নের একটি বাস্তব চিত্র।

পুরোনো সিস্টেম ও নতুন দায়ভার

প্রায় দুই বছর আগে পর্তুগালের অভিবাসন ও সীমান্ত সংস্থা ‘এসইএফ’ বিলুপ্ত হয়ে যায়। এর ফলে, বিমানবন্দর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, অভিবাসন বিষয়ক প্রশাসনিক দায়িত্ব এবং বহিষ্কার ও প্রত্যাবর্তন কার্যক্রম, এসব দায়িত্ব এখন পিএসপি-এর নতুন ইউনিট  ‘ইউএনইএফ’ -এর কাছে এসেছে। ‘ইউএনইএফ’-এর কাজের মধ্যে আছে, বিমানবন্দর নিরাপত্তা, পোর্তো, লিসবন ও ফারোতে আটকের কেন্দ্র পরিচালনা প্রত্যাবর্তন, বহিষ্কার ও পুনঃগ্রহণ‌ কার্যক্রম

অভিবাসন নীতি ও বিশেষজ্ঞ মতামত

বিশ্লেষকরা বলছেন, পর্তুগাল এখন কঠোর শাস্তির বদলে সহযোগী, মানবিক ও সম্মানজনক পদ্ধতিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এটি শুধু একটি সংখ্যার বৃদ্ধি নয়; এটি এক নেতিবাচক সমস্যাকে মানুষ-কেন্দ্রিক সমাধানে রূপান্তরিত করার চেষ্টা। এক উন্নয়ন বিশ্লেষক মন্তব্য করে বলেন, স্বেচ্ছা প্রত্যাবর্তন অভিবাসীদের জীবনে নতুন শুরু হতে পারে, এতে তারা নিজের সিদ্ধান্ত নিতে পারে, পরিবারকে সাথে নিতে পারে এবং সম্মানের সঙ্গে জীবন নতুন করে সাজাতে পারে।

ভবিষ্যতের সম্ভাবনা

পর্তুগাল দেশের অভিবাসন নীতির দিকটিকে মানবিকভাবে পরিচালনা করছে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ফলে আরও বেশি সফল প্রত্যাবর্তন উদাহরণ সামনে আসতে পারে।  অন্য ইউরোপীয় দেশের কাছেও এটি একটি মডেল পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version