শনিবার, ৭ই মার্চ, ২০২৬   |   ২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জার্মানিতে ১৮ বছর বয়সী তরুণদের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক তথ্য সংবলিত প্রশ্নপত্র  পূরণের আইনের বিরুদ্ধে তীব্র বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বার্লিনসহ দেশটির প্রায় ১৫০টি শহরে হাজার হাজার শিক্ষার্থী স্কুল বর্জন করে এই প্রতিবাদে অংশ নেন।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া নতুন এই আইন অনুযায়ী, ১৮ বছর পূর্ণ হওয়া প্রতিটি তরুণকে সেনাবাহিনীতে তাদের শারীরিক সক্ষমতা এবং সামরিক সেবায় আগ্রহ নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রশ্নপত্র পূরণ করতে হবে। তরুণ প্রজন্মের দাবি, এটি তাদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও ভবিষ্যৎ বেছে নেওয়ার অধিকারের পরিপন্থী। অনেক শিক্ষার্থী এটিকে ভবিষ্যতে ‘বাধ্যতামূলক সেনাপর্ব’ বা কনস্ক্রিপশন ফিরিয়ে আনার প্রথম ধাপ হিসেবে দেখছেন।

বার্লিনের পোস্টডামার প্লাজ এবং ওরানিয়েনপ্লাজে সমবেত বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিল বিভিন্ন যুদ্ধবিরোধী স্লোগান সংবলিত প্ল্যাকার্ড। সেখানে এক শিক্ষার্থী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “রাজনীতিবিদদের যুদ্ধের জন্য আমরা কেন ফ্রন্টলাইনে যাব? আমরা আমাদের ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত নিজেরাই নিতে চাই।” বিক্ষোভকারীদের অন্যতম প্রধান স্লোগান ছিল- “ধনীরা যুদ্ধ চায়, যুবসমাজ চায় ভবিষ্যৎ”

জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্জ এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০৩৫ সালের মধ্যে সামরিক বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ১ লাখ ৮৪ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ ৭০ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মূলত রাশিয়ার হুমকি এবং ন্যাটোর লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এই নিয়োগ ড্রাইভ শুরু করা হয়েছে। তবে সরকার বলছে, আপাতত এটি ‘স্বেচ্ছামূলক’ পর্যায়ে থাকলেও পর্যাপ্ত জনবল না পাওয়া গেলে ভবিষ্যতে বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

আয়োজকদের মতে, সারা দেশে প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষার্থী এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছে। বার্লিন ছাড়াও মিউনিখ, ডুসেলডর্ফ, ফ্রাঙ্কফুর্ট এবং কোলনের মতো বড় শহরগুলোতেও বড় বড় মিছিল বের করা হয়। তরুণদের এই আন্দোলন জার্মানির বর্তমান প্রতিরক্ষা নীতি নিয়ে সরকারের সঙ্গে সাধারণ জনগণের একটি বড় ধরনের মানসিক দূরত্ব তৈরি করেছে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version