জার্মানির ব্যস্ততম বন্দর শহর হামবুর্গের জনপদে এক পথভ্রষ্ট নেকড়ের আকস্মিক উপস্থিতিতে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গত সোমবার সন্ধ্যায় শহরের আলটোনা এলাকার একটি শপিং প্যাসেজে বিভ্রান্ত ও আতঙ্কিত প্রাণীটি এক নারীকে কামড়ে রক্তাক্ত করেছে, যা দেশটিতে গত দেড়শ বছরের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা। ১৯৯৮ সালে জার্মানিতে নেকড়েদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকে মানুষের ওপর হামলার ঘটনা এই প্রথম। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নেকড়েটি একটি দোকানের কাচের দেওয়ালে বারবার ধাক্কা খাচ্ছিল; আহত ওই নারী প্রাণীটিকে সাহায্য করতে বা এলাকা থেকে বের করে দিতে কাছে গেলেই সেটি তাঁর মুখে কামড় বসিয়ে দেয়। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে ক্ষতস্থানে সেলাই দিতে হয়েছে।
এই ঘটনার পর পুলিশ পুরো এলাকায় চিরুনি অভিযান শুরু করে এবং প্রায় এক ঘণ্টা পর জুংফার্নস্টিগ এলাকার বিনেন-আলস্টার হ্রদ থেকে অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় নেকড়েটিকে উদ্ধার করে। হামবুর্গের পরিবেশবিষয়ক সিনেটর ক্যাথারিনা ফেগেবাঙ্ক এই ঘটনাকে ‘দুর্ঘটনা’ ও ‘নজিরবিহীন’ হিসেবে বর্ণনা করে জানিয়েছেন, নেকড়ে এখন জার্মানির বড় শহরগুলোতেও একটি রূঢ় বাস্তবতা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি একটি ভীতসন্ত্রস্ত তরুণ নেকড়ে ছিল, যা ভুলবশত শহরের কেন্দ্রে চলে এসে নিজেকে হুমকির মুখে দেখে এমন আক্রমণাত্মক আচরণ করেছে। বর্তমানে প্রাণীটিকে ক্লোভেনস্টিন বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ক্লাউস হ্যাকল্যান্ডার সতর্ক করেছেন যে, জার্মানিতে নেকড়ের সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বাড়ায় এখন ঘনবসতিপূর্ণ শহরেও এদের ঢুকে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
