বৃহস্পতিবার, ২রা এপ্রিল, ২০২৬   |   ২০ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইউরোপে উন্নত জীবনের আশায় উত্তাল সমুদ্র পাড়ি দিতে গিয়ে গত ৪৮ ঘণ্টায় পৃথক দুটি নৌকাডুবিতে অন্তত ৩৮ জন অভিবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার ইতালির ল্যাম্পেডুসা এবং তুরস্কের বোড্রাম উপকূলে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাগুলো ঘটে। নিহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা এর তথ্যমতে, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসেই এই বিপজ্জনক রুটে মৃত্যু ও নিখোঁজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬২৪ জনে।

ইতালির কোস্টগার্ড ল্যাম্পেডুসা দ্বীপের কাছ থেকে ১৯ জন অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করেছে। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে সাতজন বর্তমানে প্রচণ্ড ঠান্ডা বা ‘হাইপোথার্মিয়া’ এবং নৌকার জ্বালানির বিষাক্ত ধোঁয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন। ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং তীব্র শীতই এই মৃত্যুর প্রধান কারণ। অন্যদিকে, তুরস্কের বোড্রাম সংলগ্ন এজিয়ান সাগরে আফগান অভিবাসীবোঝাই একটি দ্রুতগামী নৌকা উল্টে আরও ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তুর্কি কোস্টগার্ড জানিয়েছে, গ্রিসের কস দ্বীপে প্রবেশের চেষ্টাকালে উত্তাল সমুদ্রে পানি ঢুকে নৌকাটি ডুবে যায়।

জাতিসংঘের আইওএম সতর্ক করে জানিয়েছে যে, মধ্য-ভূমধ্যসাগরীয় রুটটি বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী অভিবাসন রুট হিসেবে চিহ্নিত। যুদ্ধ, দারিদ্র্য এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে বাঁচতে এশিয়া ও আফ্রিকার মানুষ ছোট ও অনিরাপদ নৌকায় করে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করায় প্রতি বছর হাজার হাজার প্রাণ ঝরে যাচ্ছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত শুধু ইতালিতেই সমুদ্রপথে ৬,১১৭ জন অভিবাসী পৌঁছেছেন, যা এই রুটের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির চিত্রই ফুটিয়ে তোলে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version