রবিবার, ২২শে মার্চ, ২০২৬   |   ৯ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্বের ছয়টি প্রভাবশালী রাষ্ট্র। তবে ইতালি, জার্মানি ও ফ্রান্স স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যেকোনো ধরনের সামরিক বা নিরাপত্তা সহযোগিতা কেবল চলমান সংঘাতের পর ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হলেই শুরু হবে। গত বৃহস্পতিবার ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান ও নেদারল্যান্ডস এক যৌথ বিবৃতিতে এই সদিচ্ছা প্রকাশ করে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো উপসাগরীয় অঞ্চলে বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানায়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বোমা হামলা শুরু করার পর থেকে তেহরানও পাল্টা আঘাত শুরু করে। এতে এ পর্যন্ত ১০টি তেলবাহী ট্যাংকারসহ অন্তত ২৩টি বাণিজ্যিক জাহাজ আক্রান্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)-র তথ্যমতে, সংঘাতের কারণে বর্তমানে হরমুজ প্রণালির পশ্চিমে প্রায় ৩ হাজার ২০০ জাহাজে ২০ হাজার নাবিক আটকা পড়ে আছেন। ইরানকে অবিলম্বে মাইন স্থাপন, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলাসহ সব ধরনের নৌ-প্রতিবন্ধকতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে এই ছয় জাতি।

তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এখনই কোনো সামরিক অভিযানে জড়াতে নারাজ ইউরোপীয় দেশগুলো। ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তো সাফ জানিয়েছেন, এই উদ্যোগকে যেন ‘যুদ্ধ অভিযান’ হিসেবে দেখা না হয়। জাতিসংঘ ম্যান্ডেট ও একটি পূর্ণাঙ্গ বহুপাক্ষিক কাঠামো ছাড়া ইতালি সেখানে প্রবেশ করবে না। একইভাবে জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস জানিয়েছেন, জার্মানির অংশগ্রহণ নির্ভর করবে যুদ্ধবিরতি পরবর্তী পরিস্থিতি এবং পার্লামেন্টের অনুমোদনের ওপর। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ভবিষ্যতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করার কথা জানিয়েছেন।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version